পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই খলিলুর রহমানের প্রথম রাশিয়া সফর। চার দিনের সরকারি সফরে তিনি গত ৭ জুন মস্কো পৌঁছান।
ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সফরকালে রাশিয়ার ফেডারেল অ্যাসেম্বলির ফেডারেশন কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর অন্যতম ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও মাইন অপসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল মস্কো।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার ফাঁকে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন গতি যোগ করে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে শিল্প সরঞ্জাম, গম ও খনিজ সার আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য এবং সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রপ্তানি করা হয় রাশিয়ার বাজারে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট ইতোমধ্যে উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটও চলতি বছরের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে গ্যাস অনুসন্ধান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮৫টি বৃত্তি বরাদ্দ দিয়েছে দেশটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফর ও বৈঠক বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

মোঃ জাকির হোসাইন,সম্পাদক