মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা এমন হতে হবে যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
শনিবার স্টারমারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চুক্তির সফলতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
ফোনালাপে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা করেন। তারা একমত হন যে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে অবাধ নৌ-চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতেও উভয় দেশ এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট দেন। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি রোববার স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং চুক্তি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।
আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে গিয়ে সাম্প্রতিক বি-২ বোমারু বিমানের হামলার ফলে ভূগর্ভে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ও তেজস্ক্রিয় ধুলাবালি সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে পারে।
তবে আলোচনার সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ এখনও রয়েছে। যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক