রামপুরা হত্যাকাণ্ডে ঐতিহাসিক রায়: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ দুপুর
  • ১৫৫১১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে এক আসামিকে যাবজ্জীবন এবং অপর একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) বেলা সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, রামপুরা জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে পলাতক। একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই বিপ্লব চলাকালে রামপুরায় প্রাণ বাঁচাতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করা হয়। একই ঘটনায় মায়া ইসলাম ও মো. নাদিম নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।

রায় ঘোষণার আগে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আদালতে বলেন, এক আসামি নিজেই গুলি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণেই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা উচিত।

গত ১৫ জুন মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে নতুন ডিজিটাল আলামত উপস্থাপনের আবেদনের পর পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণসহ মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad