কর্ণফুলী টানেলে আয় ৩ কোটি, ব্যয় প্রায় ৭ কোটি — লোকসান কমাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ দুপুর
  • ১৩৮৭৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের মাসিক পরিচালন ব্যয় টোল থেকে অর্জিত আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে টানেল থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।

সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং নৌ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী জানান, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টানেল চালুর শুরুতে দৈনিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় হতো। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে বর্তমানে তা দৈনিক ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে টানেলকে লাভজনক করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মোসা. নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) করিডোর দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি আরও উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেসব যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হলেও নবায়ন করা হয়নি, সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করে সড়ক থেকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর যেসব যানবাহনের ফিটনেস পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে, সেগুলো নবায়নের জন্য মালিকদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তালিকা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত গতিতে চলা যানবাহন শনাক্ত করে চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনটি সম্ভাব্য রুট বিবেচনায় রেখে শিগগিরই নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সড়কে চলাচল সীমিত রাখতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে বলে সংসদকে অবহিত করেন তিনি।

অন্যদিকে রেলমন্ত্রী জানান, রাজধানীর তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে গুরুত্বপূর্ণ সব লেভেল ক্রসিংয়ে ধাপে ধাপে স্মার্ট গেট ও ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad