সলঙ্গায় আওয়ামিলীগ নেতার হামলায় বিএনপি নেতা আহত!

  • মোঃ জাকির হোসাইন,সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৪৮ বিকাল
  • ২০০২৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটিকুমরুলের বাগদা বাজারে বালু ব্যবসা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।


হামলার সময় আহত ওই নেতার কাছে থাকা এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

আহত আব্দুল আলীম বিশু (৫৫) হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং পেশায় বালু ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।


এ ঘটনায় আহতের ছোট ভাই ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।


এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাগদা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে বালু ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল আলীম বিশুর বিরোধ চলছিল। এর জেরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ জুন দুপুর প্রায় ১২টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে বাগদা বাজারে গেলে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় পথরোধের কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ডেলিগেট সদস্য জালাল উদ্দিন আকন্দের নির্দেশে সাবেক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফ আলী শেখ লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার জন্য সরে গেলে আঘাতটি তার পিঠের ডান পাশে লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

এরপর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মামলার প্রধান আসামি মামুন প্রামাণিক দোকান থেকে ধারালো গরু জবাইয়ের ছুরি এনে তার মাথার বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আবু হানিফ, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিনসহ আরও ৬-৭ জন তাকে বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে।

এ সময় আশরাফ আলী শেখ আহত বিশুর পকেটে থাকা ব্যবসায়িক নগদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।


আব্দুল আলীম বিশুর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এখনও হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ঘটনার পর তার চিকিৎসা এবং স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”



অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আশরাফ মুঠোফোনে বলেন, আমি ঘটনার দিন গ্রামে ছিলাম না।


এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী বলেন, “মারামারির ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad