সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজশিক্ষার্থী সোহানের মানবিক উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হওয়ার পর এবার তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্ধ ও অসুস্থ একটি ঘোড়ার দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন পরিচর্যা করায় তাকে উৎসাহ ও সম্মান জানিয়ে আর্থিক সহায়তা এবং উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা সোহানের বাড়িতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি নগদ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেন। জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় সোহানের সার্বিক খোঁজখবরও নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোহানের মানবিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি সোহানের মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে অনুপ্রাণিত করতে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পাঠানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে একটি অন্ধ ও অসুস্থ ঘোড়া এলাকার শ্মশানের পাশে পড়ে ছিল। অনেকেই ঘটনাটি ভিডিও করলেও প্রাণীটিকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেননি। খবর পেয়ে সোহান ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তার পরিচর্যা শুরু করেন।
পরে স্থানীয় পশুচিকিৎসক ঘোড়াটি পরীক্ষা করে জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসার মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এরপরও সোহান ঘোড়াটিকে পরিত্যাগ না করে নিয়মিত খাদ্য, চিকিৎসা ও সেবাযত্নের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত সোহান বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি ছোট্ট একটি মানবিক কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এত বড় স্বীকৃতি পাব। এই সম্মান আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
সোহানের বাবা নাঈম হোসেন বলেন, “ছেলের মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।”
জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মঙ্গলবার রাতেই সোহানের বাড়িতে যাই। তার শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দিই এবং আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তর করি।”

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক