মাত্র ৮ মাসে স্বহস্তে ৩০ পারার পবিত্র কুরআন লিখে অনন্য নজির গড়লেন কুমিল্লার সুরাইয়া

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ বিকাল
  • ১৪২৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

অদম্য ধৈর্য, নিষ্ঠা ও ধর্মীয় অনুরাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত (১৮)। মাত্র আট মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি স্বহস্তে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার হাতে লেখা কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠা এতটাই নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন যে, প্রথম দেখায় এটি মুদ্রিত নাকি হাতে লেখা—তা বোঝা কঠিন।

এ অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা পদক ও স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলাম, কান্দিরপাড় উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সুরাইয়া জান্নাত উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির মেয়ে। তিনি মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সমবয়সীরা যখন অবসর সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মোবাইল ফোনে ব্যয় করছে, তখন সুরাইয়া পড়াশোনার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে স্বহস্তে পবিত্র কুরআন লেখার মতো কঠিন ও ধৈর্যসাধ্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

সুরাইয়া জানান, সাহাবায়ে কেরামের কুরআন সংরক্ষণের ইতিহাস থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অযথা সময় নষ্ট না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় আমি নিজ হাতে পবিত্র কুরআন লেখা শুরু করি।’

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি লেখার কাজ শুরু করে একই বছরের আগস্টের শেষ দিকে তা সম্পন্ন করেন। মাদ্রাসার নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে তিনি লেখার কাজ চালিয়ে যান, যাতে শিক্ষাজীবনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। পুরো কুরআন লিখতে তার সময় লাগে প্রায় আট মাস। এ কাজে তিনি ব্যবহার করেছেন ৬১১টি পৃষ্ঠা এবং প্রায় ৫৫টি কলম।

সুরাইয়া আরও বলেন, প্রতিবার কুরআন লিখতে বসার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরিফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন। তার বিশ্বাস, এতে লেখায় বরকত ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহিহ বুখারি-ও স্বহস্তে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

তিনি জানান, পুরো যাত্রাপথে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের আরবি ভাষা ও ক্যালিগ্রাফির প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। দীর্ঘ আট মাসের অধ্যবসায়ের পর মেয়ের এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার গর্বিত। মেয়ের কৃতিত্বে আনন্দিত হয়ে সৌদি প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন।

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘এত অল্প বয়সে স্বহস্তে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন লেখা সত্যিই একটি বিরল অর্জন। সুরাইয়ার হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর এবং ছাপা অক্ষরের মতো নিখুঁত। তার এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল, ইতিবাচক ও মূল্যবোধসম্পন্ন কাজে উৎসাহিত করবে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad