বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে রংপুরের শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা দুই দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর প্রধান ডাকঘরের সামনে জেলা ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা অংশ নেন।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য বেতন-ভাতা ও বিভাগীয় কর্মচারীর স্বীকৃতির দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সোমবার থেকে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রংপুরের অধীনস্থ সব শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
ডাক কর্মচারী গোলাম সারোয়ার বুলবুল বলেন, বর্তমানে তাদের মাসিক বেতন মাত্র ৪ হাজার টাকা, যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে একজন কর্মচারীর জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রতুল। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও অন্য সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরবেন না। সরকারের প্রতি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হলেই কর্মচারীরা স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরে যাবেন।
আরেক কর্মচারী ইসলাম উদ্দিন বলেন, তার মাসিক বেতন ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১৩৩ টাকা। এই অর্থে বর্তমান সময়ে পরিবার চালানো কিংবা সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, একজন দিনমজুর যেখানে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন, সেখানে সারাদিন চিঠিপত্র বিতরণ করেও তারা ন্যূনতম জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না।
ডাক কর্মচারী রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, দেশে প্রায় ২৯ হাজার ডাক কর্মচারীর মধ্যে ১৬ হাজার কর্মচারী সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও বাকিরা এখনও বঞ্চিত। তার দাবি, হাইকোর্ট ২৯ হাজার কর্মচারীকেই স্বীকৃতি দিলেও ডাক বিভাগ তা বাস্তবায়ন করেনি। তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কর্মচারীকে সমান স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আন্দোলনরত কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ