টানা বর্ষণে ঈদগাঁও বিপর্যস্ত: ২০ গ্রামে জলাবদ্ধতা, ধসের ঝুঁকিতে পাহাড় ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০১ বিকাল
  • ১৩২৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শতাধিক বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, জলাবদ্ধতায় ভুগছে অন্তত ২০টি গ্রামের রাস্তাঘাট। একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও সদর, জালালাবাদ, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জাগিরপাড়া, মণ্ডলপাড়া, আলমাছিয়া মাদরাসা সড়ক, মাইজপাড়া, বাজার সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ঈদগাঁও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল চৌধুরী বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ দখল হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। জাগিরপাড়ায় ৮ থেকে ১০টি বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি জানান, ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঈদগাঁও নদীর কয়েকটি স্থানে ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং ঘন ঘন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলির কারণে সমস্যা আরও জটিল হয়েছে।

মঙ্গলবার জালালাবাদের সওদাগরপাড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি ও স্থানীয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি আবদুল্লাহর নেতৃত্বে পানিবন্দি পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন জানান, তাঁর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা নিশ্চিত না হলে মানবিক সংকট আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, গজালিয়া ও খোদাইবাড়ী এলাকায় কয়েকটি বসতঘরে পানি ঢুকেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।

পোকখালী ইউনিয়নের প্রশাসক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকলেও পরে বেশির ভাগ স্থান থেকে তা নেমে গেছে।

এদিকে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি সেতুর এক পাশে পাহাড়ি ঢলের কারণে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঈদগাঁও, রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার লাখো মানুষের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ঈদগাঁও উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানান, কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ স্থান থেকে পানি নেমে গেছে। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি বা জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। যেসব এলাকায় এখনো পানি রয়েছে, সেখানে দ্রুত নিষ্কাশনের কাজ চলছে। ধসের ঝুঁকিতে থাকা হিমছড়ি সেতু রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মাটি ফেলার কাজও শুরু হয়েছে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন না হলে ডায়রিয়া, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad