সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার নাইমুরী এলাকায় অবস্থিত ‘স্বপ্ন বিলাস’ কফি হাউজকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র সামাজিক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আনাগোনা এবং বিনোদনের আড়ালে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকেই কফি হাউজটিতে স্কুল ও কলেজের ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তরুণ-তরুণী ও উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে থাকা অন্ধকার ও গোপন কেবিনসদৃশ কক্ষগুলোকে কেন্দ্র করেই এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকি। কিন্তু ব্যবসায়িক স্বার্থে কফি হাউজে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় আড্ডা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে এলাকার সামাজিক পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শুধু অনৈতিক আড্ডাই নয়, কফি হাউজটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদকের বিস্তারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নিয়মিত স্কুল ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন জমায়েত অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এ বিষয়ে ‘স্বপ্ন বিলাস’ কফি হাউজের প্রতিষ্ঠাতা মালিক সবুজ আহমেদ বলেন, তিনি পাঁচ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আহাদ আলীর কাছে ইজারা দিয়েছেন। বর্তমানে কফি হাউজটি পরিচালনা করছেন আহাদ আলী।
বর্তমান পরিচালনাকারী আহাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, “স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে পারে। তবে আমার প্রতিষ্ঠানে কোনো কেবিন ব্যবস্থা নেই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “স্বপ্ন বিলাস কফি হাউজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক