আইসিসিতে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইলহান ওমরের আহ্বান, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বিল

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ দুপুর
  • ৭৮৪৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে আইসিসিকে দুর্বল করার নীতির বিপরীতে এটিকে কংগ্রেসে প্রথম উল্লেখযোগ্য পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে ভেঙে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার দুই দিন পরই ইলহান ওমর এই বিল উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইলহান ওমর বলেন, যেসব ভুক্তভোগীর জন্য অন্য কোনো বিচারিক পথ খোলা নেই, তাদের জন্য আইসিসি ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই মানবাধিকার ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে দুর্বল না করে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এ বার্তা বিশ্বকে দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতারাও আইসিসির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনোনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, এর কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা আদালতের সঙ্গে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি বা আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের অনেক নেতা আইসিসির তদন্ত কার্যক্রমকে সমর্থন করেছিলেন। সে সময় প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম যুদ্ধাপরাধ তদন্তের পক্ষে একটি প্রস্তাবের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ইলহান ওমরও একই বছর এ ধরনের একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন। এবার তিনি সেই প্রস্তাব পুনরায় কংগ্রেসে উপস্থাপন করে ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী আইনপ্রণেতাদের সমর্থন কামনা করেছেন। তবে তার এ উদ্যোগে দুই দলের কতটা সমর্থন মিলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ইলহান ওমরের নতুন প্রস্তাব এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি মানবাধিকার সংস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের কারণে পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলের কথিত যুদ্ধাপরাধসংক্রান্ত আইসিসির তদন্তে সহযোগিতা করা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, আইসিসি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার জন্য হুমকি। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, রুবিও আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ২০০২ সালের রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর না করায় মার্কিন ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই।

সাবেক যুগোস্লাভিয়া, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া ও সিয়েরা লিওনে সংঘটিত নৃশংসতার বিচারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত হিসেবে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১২৫টি দেশ এই আদালতকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad