রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ফাটল, আবার কোথাও বিটুমিন ও খোয়া আলগা হয়ে যাওয়ায় সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন ও পাথরের স্তর আলগা হয়ে গেছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশের এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের তুলনায় উঁচু অবস্থায় থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন না হয়ে মাঝখানে জমে থাকার চিহ্ন দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি জমে থাকার কারণেই নতুন সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও দ্রুত বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (পিএমপি)-এর আওতায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার এলাকায় সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, "সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ১৫ দিনও টিকল না। হাত দিয়ে ঘষলেই পিচ উঠে আসে। এমন নিম্নমানের কাজ আগে কখনো দেখিনি। এ কাজে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।"
আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, "রাস্তার দুই পাশের এজিংয়ের ইট এত উঁচু করে বসানো হয়েছে যে বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। পানি মাঝখানে জমে নতুন রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে এটি প্রকৌশলগত ত্রুটি। তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে এই কাজ গ্রহণ করলেন?"
বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ বলেন, তিনি একাধিকবার ঠিকাদারকে কাজের মান নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে ঠিকাদার তার পরামর্শ আমলে নেননি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন-এর ঠিকাদার রেদোয়ান ইকবাল দাবি করেন, অতিবৃষ্টির কারণে কাজের এমন সমস্যা হয়েছে।
রংপুর সওজের উপ-প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজম বলেন, বৃষ্টির কারণে তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কার করা হবে।
এদিকে রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, প্রকৌশলগতভাবে এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের নিচে থাকার কথা, যাতে বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশিত হতে পারে। কিন্তু এখানে ইট উঁচু থাকায় পানি সড়কের ওপর জমে কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি কোনোভাবেই প্রকৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স