জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ যুগের অবসান, পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০১ রাত
  • ৩৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশ যেন আর কখনও কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত না হয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি শুরু থেকেই বাংলাদেশ ফার্স্ট। আমরা আর কখনও বাংলাদেশকে ক্লায়েন্ট স্টেটে পরিণত হতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সাফল্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ক্ষেত্রে জাতির ওপর একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পণ করেছে। সরকার ও জনগণকে আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ড. খলিলুর রহমান জানান, সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে বলেছেন, একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে হারিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল। তবে এখন দেশটি শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে। তার মতে, এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিফলন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে আন্দোলনে আজীবনের জন্য আহতদের প্রতিও তিনি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়। তিনি জানান, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে তিনি ৫ আগস্ট জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার বিশ্বাস, সেই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে আংশিকভাবে হলেও ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী উত্তরণপর্বে সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলো হলো—তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার এ তিনটি লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব অর্জনে বাংলাদেশের সফল প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, শুরুতে এটি প্রায় অসম্ভব একটি দায়িত্ব বলে মনে হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরলস প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ক্যাডারের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল প্রমাণ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রথম বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান জানিয়ে দেশপ্রেম, সততা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী তরুণরা নিপীড়কদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।”




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad