জুলাই আন্দোলনের শক্তিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শহীদদের স্মরণে দ্রোহের জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক, ছাত্র, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক কর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। সেই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, “একসময় আমরা সবাই একসঙ্গে চলছিলাম। এখন পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে যাচ্ছি। মাহমুদ ভাই, আপনি আবারও সবাইকে নিয়ে ঐক্যের উদ্যোগ নিন। আমাদের দোয়া ও সমর্থন আপনার সঙ্গে থাকবে। আমরা একটি অক্ষত জাতি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য চাই।”
তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বৈতনীতি গ্রহণ করা উচিত নয়। “আমার সন্তান অপরাধ করলে যেমন বিচার হবে, অন্যের সন্তান একই অপরাধ করলে তার ক্ষেত্রেও একই বিচার হতে হবে,”—বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি ছিল জুলাই আন্দোলনের প্রথম বর্ষপূর্তি। তার প্রত্যাশা ছিল সরকার সর্বদলীয় উদ্যোগে দিবসটি পালন করবে। কিন্তু তা না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে আলাদা কর্মসূচি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “যদি সরকার একটি সর্বদলীয় কমিটি গঠন করে সবাইকে নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করত, তাহলে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। জাতি আজও ফ্যাসিবাদবিরোধী সেই ঐক্য দেখতে চায়, যার মাধ্যমে ২০২৪ সালে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল।”
মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্যে বর্তমান বিরোধী দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, অথচ প্রকৃত চ্যালেঞ্জের দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে বিভেদ ভুলে আবারও জুলাই আন্দোলনের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে পরাজিত দেশীয় ও বিদেশি—উভয় শক্তিই এখনও সক্রিয় রয়েছে। তাই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সরকারেরই বেশি, আর বিরোধী দলের দায়িত্ব হবে সেই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই অনেককে বদলি করা হচ্ছে এবং জুলাই আন্দোলনের অর্জনকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া যাবে না।
দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বুয়েটের এমসি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কাজী আবিদ হাসান সিদ্দিকী ও ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক