জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ রাত
  • ৩৬২৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়েই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এই অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অসংখ্য মানুষ ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করেছেন। তাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ফলেই বর্তমান সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যখন নান্দাইলে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সাহস কেউ দেখায়নি, তখন তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, নান্দাইলের সার্বিক উন্নয়নে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তারেক রহমান যে আন্দোলনের বীজ রোপণ করেছিলেন, তার ঐতিহাসিক পরিণতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অর্জিত হয়। এদিন সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকাভুক্ত শহীদ পরিবারের জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করা হবে। এছাড়া আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন করা হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নান্দাইল উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নকাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন শহীদ জুবায়ের ইসলামের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী, শহীদ হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী, জুলাই যোদ্ধা শেখ সাদী, জুলাই যোদ্ধা রানা হোসেন, ছাত্রদল নেতা পিয়াস হোসেন, যুবদল নেতা হাকীকুজ্জাম নওফেল এবং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন।

এছাড়া বক্তব্য দেন নান্দাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, নান্দাইল উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এনামুল কাদের।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, স্থানীয় সাংবাদিক, সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে সকালে নান্দাইলে পৌঁছে তথ্য প্রতিমন্ত্রী শহীদ মিনার চত্বরে জুলাই শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মিত গ্রাফিতিতে স্বাক্ষর করেন।

বিকেলে অডিটোরিয়ামের সামনে উন্মুক্ত স্থানে ‘ছবিতে জুলাই’ শীর্ষক ফটো প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাইভিত্তিক বিশেষ বইমেলারও উদ্বোধন করেন। পরে ‘স্মৃতির ক্যানভাস’-এ নিজের অভিজ্ঞতা লিখে স্বাক্ষর করেন এবং উপস্থিত অন্যরাও সেখানে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।

এরপর উপজেলা পরিষদে স্থাপিত ‘জুলাই কর্নার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষে তিনি নিজ পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad