সংবিধানে ‘উপজাতি-নৃগোষ্ঠী’ নয়, ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্তির দাবি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
  • ৩৪০৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সংবিধানে ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ ও ‘নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দ বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের আদিবাসী অধিকারকর্মীরা। একই সঙ্গে ভূমি অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের প্রতি একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।

স্বাগত বক্তব্যে শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সরকার আদিবাসীদের উন্নয়নে ইতিবাচক অবস্থানের কথা বলছে, যা আশাব্যঞ্জক। তবে এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই প্রকৃত অর্থে আদিবাসীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তিনি সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনেরও আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। তিনি সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ‘উপজাতি’ ও ‘নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে ‘আদিবাসী’ শব্দ অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি জাতীয় অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন উন্নয়নের আগে তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

তিনি আরও বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। আদিবাসী ধাত্রীদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি ব্যয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার ভূমি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ঈশিতা দস্তিদার আদিবাসীদের লোকজ চিকিৎসা জ্ঞানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ধাত্রী ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত আদিবাসী নারীদের আধুনিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, আদিবাসীদের বঞ্চনার পাশাপাশি অর্জনের বিষয়টিও মূল্যায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে তাদের আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো বিতর্ক ছাড়াই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি, সংসদীয় আদিবাসী বিষয়ক ককাস গঠন এবং তা কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন ভূমির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই তাদের ন্যায্য ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেন, জুম চাষকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে যে নেতিবাচক ধারণা প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই জুম চাষ পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। এ পদ্ধতির আরও উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারের অন্যান্য বক্তারা বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ইকো-ট্যুরিজমসহ যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির আওতায় গঠিত ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও বিভিন্ন কারণে কমিশনের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। কমিশনকে সক্রিয় করে ভূমি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান বক্তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad