ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। গত ২৫ জুলাই শুরু হওয়া আন্দোলন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা আশাবাদী হলেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সিবিআই তদন্তসহ সব দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
রাজধানী রাঁচিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনশন করছেন ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। তিনি গত ২ আগস্ট থেকে অনশন শুরু করেন। রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক ফোনে মাহাতোর সঙ্গে কথা বলে অন্তত পানি পান করার অনুরোধ জানান। পরে মাহাতো তাতে সম্মতি দেন। উল্লেখ্য, ওয়াংচুক নিজেও দিল্লির যন্তর মন্তরে এক আন্দোলনে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন।
জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের মুখপাত্র জীবন কুমার জানান, আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দাবি আদায়ের চাপ বাড়াতে দুই নারীসহ পাঁচজন নতুন করে অনশনে যোগ দিয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করা। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়মের সিবিআই তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং পরীক্ষা বাতিলের ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। দলটি বিষয়টি রাজ্যের বিধানসভায় উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক কংগ্রেসও আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, দিল্লি কিংবা দেশের যেকোনো প্রান্তেই হোক, আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে আছি। তাদের সমস্যার সমাধানে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
ছাত্রনেতা রাধে কুমার ও রাহুল ক্রান্তি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী ১০ আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাঁচি প্রশাসন ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত বিধানসভা ভবনের ৭৫০ মিটার এলাকাজুড়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
এদিকে নিয়োগ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সিআইডির তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। রাজধানী রাঁচির আন্দোলনস্থলে মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন আন্দোলনকারীদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করছে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনির্দিষ্টকালের অনশন অব্যাহত রেখেছেন।
গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিও আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর সংস্কারের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, ঝাড়খণ্ড রাজ্য প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর ধরে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এবার তারা ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক