শুল্ক বাতিলে আমদানিকারকদের ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিল ট্রাম্প প্রশাসন

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ রাত
  • ২১২৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরোপ করা শুল্কের বড় একটি অংশ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর আমদানিকারকদের এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির একটি বড় অংশকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন। রায় ঘোষণার আগে এসব শুল্ক বাবদ আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নিম্ন আদালত যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-কে শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করে, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এত উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ আইনসম্মত নয়। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের পরিধিতেও উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা আসে।

দ্রুতগতিতে শুল্ক ফেরতের এই কার্যক্রম ট্রাম্পের বহুল আলোচিত বাণিজ্যযুদ্ধের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন নজিরবিহীন হারে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, শুল্ক ফেরতের বিষয়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

তৎকালীন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফেব্রুয়ারিতে বলেন, এ নিয়ে মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। আর অর্থ ফেরত দিতে হলে তা করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য এক ধরনের ভর্তুকি হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত মাসেও ট্রাম্প দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের "ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার" ক্ষতি হয়েছে।

তবে শুল্ক ফেরতের গতি বাণিজ্য বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান সিডলি অস্টিন-এর বাণিজ্য আইনজীবী টেড মারফি বলেন, প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অর্থ ফেরতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করা নথিতে সিবিপি জানায়, ১২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার ফেরতের আবেদন ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াকরণের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে আরও বড় অঙ্কের অর্থ শিগগিরই ফেরত দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্যাপস্টোন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজার্স-এর বিশ্লেষক ওয়াকার লিভিংস্টন বলেন, সরকার এত দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে, যা ইতিবাচকভাবে বিস্ময়কর।

তবে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশের অভিযোগ, ফেরত দেওয়া অর্থের বড় অংশই বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে। অথচ অতিরিক্ত শুল্কের প্রকৃত চাপ বহন করা সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad