জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ওলামায়ে কেরামকে শুধু মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করলেই হবে না, জাতিরও ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সব ধরনের মতপার্থক্য ও বিভেদ ভুলে তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে এগিয়ে আসেন, তবে তাদের নেতৃত্বে কাজ করতে এনসিপি প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ডিসিসি হলে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং সহযোগী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চায়। সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য বিরোধিতা নয়, বরং সতর্ক করা এবং জনস্বার্থে সহযোগিতা করা।
তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনের স্বার্থে দেওবন্দী, আহলে হাদীস, সুন্নি, জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামী ধারা কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আল্লামা আবু জাফর কাসেমী বলেন, দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করার পরও জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি; এমনকি বাকস্বাধীনতাও নিশ্চিত হয়নি। তিনি জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুবুল আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, আলী মাকসুদ খান মামুন ও রফিকুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো তারই প্রমাণ। একই সঙ্গে তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জুলাই সনদের পরিবর্তে সরকার নিজেদের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে বেশি মনোযোগী।
আলোচনা সভায় বক্তারা দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতের সংকট এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক