সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিদর্শনে রোববার আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং গৃহহীন ১০০টি পরিবারের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেবেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং নতুন করে ঘর নির্মাণে অক্ষম ১০০টি পরিবারকে নির্বাচন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে তাদের জন্য দুর্যোগ-সহনীয় নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যার কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নির্মাণাধীন প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ এবং ৫ ফুট × ৫ ফুট আকারের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রাখা হয়েছে। ভবনগুলোতে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সেগুলো অধিক টেকসই হয়।
বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, বন্যায় যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং নিজেদের সামর্থ্যে নতুন ঘর নির্মাণ সম্ভব নয়, তারাই এই সহায়তা পাচ্ছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী রোববার চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলা সফর করবেন। এর মধ্যে বাঁশখালীতে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে সমাবেশের জন্য বিশাল মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, নির্মাণাধীন ঘর এবং সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে বাঁশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা পায়, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সমাবেশস্থলে এসএসএফ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, অতিথি ব্যবস্থাপনা এবং অনুষ্ঠান সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অন্যতম দাবি হলো বন্যাকবলিত মানুষের টেকসই পুনর্বাসন, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক বাস্তবায়ন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে বৃহস্পতিবার চেচুরিয়া এসকেবি কনভেনশন হলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের নেতারা সফর সফল করতে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক