শ্রীলঙ্কার পাঁচটি কারাগারে ধারাবাহিক সহিংসতা ও অস্থিরতার ঘটনায় অন্তত তিন বন্দি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত নাশকতা এবং সমন্বিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্টে জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দ উইজেপালা জানান, নেগোম্বো, মাহারা, ম্যাগাজিন, কুরুভিটা ও পাল্লানসেনা কারাগারে সম্প্রতি সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
মন্ত্রী বলেন, সব ঘটনাকে একসঙ্গে বিবেচনা করলে এগুলো পরিকল্পিত নাশকতা এবং একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার পাল্লানসেনা কারাগারে বন্দিরা ছাদে উঠে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। তবে বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
একই দিন কুরুভিটা কারাগারেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত দুই বন্দি নিহত এবং আরও এক ডজনের বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হলেও হতাহতের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ম্যাগাজিন কারাগারে প্রায় ৪০ জন বন্দি একটি ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় একজন বন্দি নিহত হন এবং আহত আরও ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শ্রীলঙ্কার কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঁচটি কারাগারের এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা বা অভিন্ন যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক