রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিন-বগি লাইনচ্যুত, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৫ দুপুর
  • ২৮৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রংপুর নগরীর বাবুপাড়া এলাকায় বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী একটি ট্রেনের ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে রংপুর-লালমনিরহাট রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) ফারুকুল ইসলাম মানিককে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুর যাওয়ার পথে এলআর ট্রেনটির ইঞ্জিন ও একটি বগি রংপুরের বাবুপাড়া এলাকায় তিন নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই রেললাইনের পাথর ও কাঠের স্লিপার নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত পাথর না থাকায় এবং স্লিপার পচে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা দাবি করেন।

ট্রেনের যাত্রী নূর মোহাম্মদ বলেন, লালমনিরহাট থেকে রংপুরে আসার সময় তিনি ট্রেনটিতে ছিলেন। ট্রেনের গতি বেশি থাকলে স্প্রিং ভেঙে পেছনের বগিগুলো সামনে চলে আসতে পারত। তবে ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষায়, ‘আল্লাহ সবাইকে রহমত করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগীয় শহরের প্রধান রেলস্টেশনে দুটি লাইন প্রস্তুত থাকলেও আরেকটি লাইনের অবস্থা খুবই খারাপ। ওই লাইনের কাঠের স্লিপার পচে গেছে এবং পর্যাপ্ত পাথরও নেই। ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে অন্তত তিন-চারটি লাইন প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, চাকা স্লিপ করে ইঞ্জিন ও একটি বগি লাইন থেকে পড়ে গেছে। লাইনটিতে পর্যাপ্ত পাথর না থাকায় এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বুড়িমারী থেকে পার্বতীপুরগামী এলআর ট্রেনটির ইঞ্জিন ও একটি বগি তিন নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি বলেন, লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে কাজ চলছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।

লালমনিরহাট অঞ্চলের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) ধীমান ভৌমিক জানান, লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারে কাজ চলছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফারুকুল ইসলাম মানিককে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad