শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা পুত্রবধূর জন্য ইসলামে ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তবে সাধ্য অনুযায়ী তাদের সঙ্গে সদাচরণ, সম্মান ও যত্ন করা একজন ভালো মুসলমানের জন্য মহৎ দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শ্বশুর-শাশুড়ি যেহেতু বয়সে বড় এবং বাবা-মায়ের সমতুল্য, তাই তাদের সম্মান করা ও যত্ন নেওয়া দ্বীনদার মানুষের পরিচয়। পুত্রবধূ নিজের ইচ্ছা ও ভালোবাসা থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করলে তা প্রশংসনীয় এবং এর জন্য সওয়াব রয়েছে। তবে তাকে এ কাজে বাধ্য করা ইসলাম সমর্থন করে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, একজন স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এমন অনেক কাজ করেন, যা তার জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। যেমন—শহরে বাড়ি করা, গাড়ি কেনা কিংবা ব্যাংকে অর্থ সঞ্চয় করা। স্বামী যখন ফরজের বাইরে গিয়ে স্ত্রীর সুখ ও পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য এত কিছু করেন, তখন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো।
তিনি আরও বলেন, সংসারের উন্নতির জন্য স্বামীকে অনেক সময় বাইরে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে নিজের বাবা-মাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় স্ত্রীর উচিত মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি যত্নশীল হওয়া।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আজকের পুত্রবধূই একদিন শাশুড়ি হবেন। তখন তিনি যেমন নিজের পুত্রবধূর কাছ থেকে সেবা, সম্মান ও আদর-আপ্যায়ন প্রত্যাশা করবেন, তেমনি বর্তমান সময়েও তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে একই ধরনের ভালো আচরণ করা উচিত।
হাদিসে যা বলা হয়েছে
শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর ওপর বাধ্যতামূলক নয়—এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে। উদ্ধৃত সূত্র অনুযায়ী, মা-বাবার সেবা-শুশ্রূষা সন্তানের দায়িত্ব; পুত্রবধূর ওপর তা বাধ্যতামূলক নয়। এ প্রসঙ্গে ‘আল-বাহরুর রায়েক’ (৪/১৯৩) এবং ‘কিফায়াতুল মুফতি’ (৫/২৩০) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে স্বেচ্ছায় ও আন্তরিকতার সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ। পারিবারিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সম্মান ও মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকেও বয়োজ্যেষ্ঠদের যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আমার দেশ অনলাইন

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স