কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ রাত
  • ৪৪৯৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কলকাতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজের আগে আজানের শব্দ শোনা যায়নি। মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনায় অনেক মুসল্লি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পার্ক সার্কাস এলাকার এক ইমাম অভিযোগ করেন, মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার পাশাপাশি মুসলিমদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি তারা সহ্য করছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুসলিমদের নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনেরও আহ্বান জানান তিনি। তার আশঙ্কা, তা না হলে মুসলমানদের সহজেই দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া হতে পারে।

মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়।

মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আগের একটি হাইকোর্টের রায়ের উল্লেখ করে মসজিদগুলোতে পুনরায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে এমন পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মামলাকারী সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা কর্মকর্তার নামও দিতে পারেননি। প্রায় ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ থাকলেও কোনো ইমাম সরাসরি আদালতে মামলা করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শুনানিতে আদালত জানতে চায়, কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে—এর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে শব্দবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান আদালতে স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, সরকার নতুন কোনো আইন কার্যকর করছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুসারেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, ধর্মীয় স্থাপনার মধ্যে মন্দির ও মসজিদ উভয়ই রয়েছে এবং সেই নির্দেশনার আওতায় ৪ হাজার ২০০টি মসজিদ ও ১ হাজার ৯৬টি মন্দির থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজ। তাদের অভিযোগ, মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার ফলে ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর কারণে মুসলিমদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই শনিবার ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম নাগরিকরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad