ঢাকা কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যানের ওপর জোর প্রতিমন্ত্রীর

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৭ দুপুর
  • ১৮১১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ঢাকা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

তিনি বলেছেন, ঢাকা কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে কলেজটির উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেলে তিনি অবশ্যই তা করবেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের শহীদ আ. ন. ম নজিব উদ্দীন খুররম অডিটোরিয়ামে ঢাকা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি (ডিসিডিএস) আয়োজিত পঞ্চম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজটির ঐতিহ্য, অবস্থান এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রমে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করা প্রয়োজন।

নিজের সঙ্গে ঢাকা কলেজের আবেগের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন ঢাকা কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে আমার যদি কোনো কাজ করার সুযোগ থাকে, অবশ্যই আমি সেটা করব।’

দীর্ঘদিন পর কলেজে এসে বর্তমান অবকাঠামো দেখে কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে কলেজের অডিটোরিয়ামসহ পুরো ক্যাম্পাসের উন্নয়নে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর কেন্দ্রে ঢাকা কলেজের অবস্থান হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের মনোযোগ তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখানে ভর্তি হয়। এসব সুবিধাকে শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উদাহরণ তৈরিতে কাজে লাগানো উচিত।

শিক্ষার পরিধি শুধু একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে জুনায়েদ সাকি বলেন, বিতর্ক, বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং ছাত্র আন্দোলনও শিক্ষার্থীদের শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষা ও ছাত্র আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তবে দখলদারিত্ব কিংবা অন্যের অধিকার হরণের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান থাকতে হবে।

বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিতর্কের সময় কোনো বিষয়ে বিপক্ষ অবস্থান নেওয়ার অনুশীলন শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্বাস ও ধারণাকে প্রশ্ন করতে শেখায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিনির্ভরভাবে চিন্তা করার দক্ষতা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ঢাকা কলেজ সবসময়ই সহশিক্ষা কার্যক্রম, বিশেষ করে বিতর্কচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত। এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সমাজকে যুক্তিনির্ভর করে তুলতে বিতর্কচর্চার বিকল্প নেই। যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে চিন্তার বিকাশ ঘটে। একই সঙ্গে অন্যের মতামত গ্রহণ এবং নিজের মতামত যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরার সক্ষমতা তৈরি হয়। এ ধরনের চর্চা সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা বিতার্কিক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad