আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও স্মৃতিবিজড়িত উক্তি তুলে ধরছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে দলটির ফেসবুক পেজের কভার ফটোও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন কভার ফটোতে আল্লামা সাঈদীর একটি বহুল আলোচিত উক্তি স্থান পেয়েছে—‘বিড়ালের মতো পাঁচশ বছর বাঁচতে চাই না, সিংহের মতো এক ঘণ্টা বাঁচতে চাই।’
বাণীটিতে তাঁর সাহস, দৃঢ়তা ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি পোস্টে আদালতে দেওয়া আল্লামা সাঈদীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘কুরআনের বাণী প্রচারই যদি হয় আমার অপরাধ, তবে আমি হাজারবার ফাঁসির মঞ্চে যেতে রাজি আছি।’
আরেকটি স্ট্যাটাসে তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত সেই ইব্রাহিম (আ)-এর জেগে থাকা দুঃসাহসী সন্তান।’
এ ছাড়া জামায়াতের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে আল্লামা সাঈদীকে আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কে তাঁর ভালোবাসার কথা বলতে শোনা যায়।
তিনি বলেন, ‘আলিয়া আর কওমি মাদ্রাসা আমার দুই চোখের মতো প্রিয়। আমি চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা পটিয়া ও হাটহাজারীতে সফর করি, যেখানেই যাই আলেমদের সঙ্গে দেখা করি।’
আলেমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.) হুজুরকে অজু করাইছি, তাঁর পা ধুয়ে দিয়েছি। খতিবে আজম মাওলানা সিদ্দিক আহমেদ সাহেবের খেদমত করেছি আমি, মক্কায় জ্বর হলে পা চেপে দিয়েছি। এতে আমি তো ছোট হয়ে যাইনি। আমরা আলেমদের সম্মান কেন করতে পারব না? কওমি মাদ্রাসাও আমার, আলিয়াও আমার।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লামা সাঈদীর আরও কিছু বক্তব্যও বিভিন্নজন শেয়ার করছেন। পবিত্র কুরআন সম্পর্কে তাঁর একটি বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘কাল কেয়ামতে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে আমাদের। সেদিন কেউ রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসবে না। আসবে শুধুমাত্র কুরআন মাজিদ।’
দ্বীনের পথে তাঁর দীর্ঘ সময়ের দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে আল্লামা সাঈদীর আরেকটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ‘বিগত অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি কুরআনের দাওয়াত বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি।’
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট মারা যান। তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন মহলে তাঁকে স্মরণ করা হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক