সাফের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা আসিয়ান কাপ

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ দুপুর
  • ৭৪২৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়া ও হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ ২০২৬’। ১৯৯৬ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে হয়ে আসা আসিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবারই প্রথম ফিফার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার আসিয়ান গোষ্ঠীর বাইরের চীন, ভারত ও হংকংকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ব্যস্ত সূচির কারণে ভারত ও চীন খেলতে পারছে না। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ এবং চীনের পরিবর্তে পাকিস্তান টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে।

প্রথমবার আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে প্রিমিয়ার ডিভিশনে খেলবে আটটি দল এবং চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে ছয়টি। বাংলাদেশ খেলবে প্রিমিয়ার ডিভিশনে। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনস ও পাকিস্তান।

দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি ফাইনালে খেলবে। রানার্সআপ দুই দল অংশ নেবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচগুলো ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।

অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ ডিভিশনের ম্যাচ হবে আমন্ত্রিত দেশ হংকংয়ে। ‘এ’ গ্রুপে খেলবে স্বাগতিক হংকং, লাওস ও ব্রুনাই। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও তিমুর-লেস্তে। এই ডিভিশনে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ থাকছে না।

দুই ডিভিশনের জন্যই রাখা হয়েছে বড় অঙ্কের অর্থ পুরস্কার। প্রিমিয়ার ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে এক মিলিয়ন ডলার। চ্যালেঞ্জ ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে তিন লাখ ডলার। এ ছাড়া অংশগ্রহণ ফি হিসেবে প্রতিটি দল পাবে এক লাখ ২৫ হাজার ডলার।

সাফের আগে বড় প্রস্তুতির সুযোগ

ফিফা আসিয়ান কাপে খেলার জন্য আগ্রহী ছিল বাংলাদেশ। ভারতের অনুপস্থিতিতে সেই সুযোগ মিলেছে। আর এই সুযোগকে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২৩ বছর পর সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য বাংলাদেশের। সে লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় দলকে ভালোভাবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা ছিল বাফুফের। সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে ঘরের মাঠে ও বিদেশে ফুটবল সিরিজ আয়োজনের চিন্তাও ছিল। তবে আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সেই পরিকল্পনার বিকল্প খুঁজতে হচ্ছে না।

আসন্ন সাফের কারণে বাংলাদেশের জন্য আসিয়ান কাপের গুরুত্বও বেড়ে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে দলীয় বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্য ও মূল একাদশ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন কোচ থমাস ডুলি।

কোন পজিশনে কাকে প্রয়োজন, ম্যাচের দুই অর্ধে গতির ভারসাম্য কীভাবে ধরে রাখা যায় এবং প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যে বলের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় রাখা যায়—এসব বিষয়ও এই টুর্নামেন্টে পরখ করার সুযোগ থাকবে।

গতির ফুটবলই বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের জন্য আসিয়ান কাপ মোটেও সহজ হবে না। গ্রুপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলো সাধারণত দ্রুতগতির ফুটবল খেলে। তাদের গতি, কৌশল ও দ্রুত আক্রমণ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এসব দলের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট একই ছন্দে খেলা বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামজা-শমিতদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে সম্ভাবনাময় ফুটবলের বার্তা দিয়েছে, তাতে আসিয়ান কাপে ভালো করার আশাও রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলোর গতিময় ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে টুর্নামেন্টে চমক দেখাতে পারে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আসিয়ান কাপ শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাই দেবে না, জাতীয় দলের বর্তমান শক্তি ও দুর্বলতাও যাচাইয়ের সুযোগ করে দেবে।

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল বা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হবে নতুন আশাবাদ। আর আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ ভালো করতে পারলে নভেম্বরে ঘরের মাঠের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad