মাঠে ফেরার আগে বিপিএলের ‘চিকিৎসা’ জরুরি

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৭ দুপুর
  • ৪৩০৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ—বিপিএল। একসময় দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টই এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য বড় প্রশ্নের নাম। যে টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথা, সেটি আয়োজন করতে গিয়ে কেন উল্টো লোকসান গুনতে হবে? একটি দলকে মাঠে নামানোর আগে কেন তার আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা যাবে না? টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও কেন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিসিবিকে হস্তক্ষেপ করতে হবে? আর প্রতি বছর কেন নতুন করে বিপিএলকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিপিএলের সংকট কোনো একটি মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। সমস্যা টুর্নামেন্টটির কাঠামোর ভেতরেই। তাই ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিপিএল না করার সিদ্ধান্তকে শুধু একটি টুর্নামেন্ট স্থগিত রাখা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো সামনে রেখে পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে এটিকে।

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। তাঁর দেওয়া হিসাবে, গত দুই মৌসুমে বিপিএল আয়োজন করে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তাঁর যুক্তি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের আয় হওয়ার কথা, লোকসান নয়।

তামিমের অবস্থানও পরিষ্কার। চাইলে দ্রুত পাঁচটি দল তৈরি করে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব। কিন্তু শুধু আয়োজনের জন্য আয়োজন করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সুষ্ঠু ক্রিকেট এবং বিসিবির মর্যাদা। প্রয়োজন হলে ৬, ১২ কিংবা ২৪ মাস সময় নিয়েও বিপিএলকে নতুনভাবে সাজাতে চান তিনি।

এখন প্রশ্ন, বিপিএল কি সত্যিই বন্ধ রাখা দরকার ছিল? উত্তর খুঁজতে হলে আগে ফিরে তাকাতে হবে টুর্নামেন্টটির সাম্প্রতিক বদনামের তালিকায়।

ফাঁকিবাজ ফ্র্যাঞ্চাইজি

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রথম শর্তই হলো আর্থিক সক্ষমতা। যে প্রতিষ্ঠান একটি দল কিনবে, তাকে শুরুতেই প্রমাণ করতে হবে পুরো মৌসুমের আর্থিক দায় বহনের ক্ষমতা তার রয়েছে। বিপিএলের সাম্প্রতিক চিত্র এ জায়গাতেই বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিসিবির নথি অনুযায়ী, ১২তম বিপিএলের ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রত্যেকের ১০ কোটি টাকা করে নিরাপত্তা জামানত দেওয়ার কথা ছিল। মোট ৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বকেয়া ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কোথাও ব্যাংক গ্যারান্টির পরিবর্তে চেক, কোথাও আংশিক অর্থ, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জামানতের ঘাটতি ছিল।

অর্থাৎ, মাঠে দল ছিল; কিন্তু সেই দলের পেছনের আর্থিক ভিত্তিই ছিল দুর্বল।

এটি কোনো ছোটখাটো প্রশাসনিক ভুল নয়। কারণ, একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যদি শুরুতেই তার আর্থিক দায় পূরণ করতে না পারে, তাহলে টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়, কোচ, বিদেশি ক্রিকেটার, হোটেল, ভ্রমণসহ অন্যান্য ব্যয়ের নিশ্চয়তা কোথায়?

সেই নিশ্চয়তা দিতে না পারার ফলও দেখা গেছে বিপিএলে। গাড়ির চালক গাড়ি চালাতে চাননি, এমন ঘটনাও ঘটেছে। হোটেল থেকে দলকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।

কাগুজে ব্যাংক গ্যারান্টি, দায় বিসিবিরও

বিপিএলের সবচেয়ে বিব্রতকর সমস্যাগুলোর একটি ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন। তামিম ইকবাল নিজেই বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী যদি ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রয়োজন হয়, সেখানে ২ কোটি টাকার গ্যারান্টি গ্রহণ করা হলে এবং পরে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না দিলে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই দায় নিতে হয়।

এই ব্যবস্থা বন্ধ করতে চান বিসিবি সভাপতি। তবে ব্যাংক গ্যারান্টির ক্ষেত্রে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি যে একই অবস্থানে ছিল, তা নয়। কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারিত ব্যাংক গ্যারান্টির পুরো অর্থই দিয়েছে।

তাহলে প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নও উঠতে পারে। নিয়ম যদি সবার জন্য একই হয়, তাহলে সেটি ভাঙার সুযোগ কেন কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেওয়া হবে? নিয়ম প্রয়োগ না করেই যদি দলকে খেলতে দেওয়া হয়, তাহলে সেই নিয়ম থাকার প্রয়োজনই বা কী?

বিপিএল সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্ভবত এখানেই। ভবিষ্যতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শুধু নাম, পরিচিতি, সম্ভাব্য বাণিজ্যিক আকর্ষণ কিংবা অন্য কোনো বিবেচনায় নেওয়া যাবে না। ‘অর্থ আগে, দল পরে’—এমন ব্যবস্থাই চালু করতে হবে।

ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে একই গল্প

বিপিএলের সবচেয়ে পুরোনো বদনাম পারিশ্রমিক নিয়ে।

এক মৌসুমে কোনো দল ক্রিকেটারদের টাকা দেয়নি। অন্য মৌসুমে বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওনা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। কোথাও ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করেছেন, কোথাও বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। বছরের পর বছর একই চক্র ঘুরে ফিরে এসেছে।

একটি পেশাদার ক্রিকেট লিগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্ক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একই সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তাহলে সেটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না; সেটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় পরিণত হয়।

বিপিএলে সেই দুর্বলতা এখন প্রকাশ্য। খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, তিনি মাঠে খেলেছেন, টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে—তারপরও পাওনা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর চেয়ে বড় সাংগঠনিক ব্যর্থতার উদাহরণ আর কী হতে পারে?

দুর্নীতি, বিপিএলের বড় ক্ষত

অর্থনৈতিক অনিয়মের চেয়েও বিপিএলের জন্য ভয়ংকর হলো বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট।

সাম্প্রতিক বিপিএল ঘিরে দুর্নীতি, বেটিং ও ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে বিসিবির তদন্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে বিসিবির তদন্তে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড, বেটিং-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ এবং দুর্নীতির প্রস্তাবের মতো বিষয়ও উঠে আসে।

আইসিসির তদন্ত কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শাল তদন্ত শেষে ৮০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনও বিসিবির কাছে জমা দেন। জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের নামের পাশেও এ টুর্নামেন্টে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে ‘লাল পতাকা’ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু দর্শক নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা। দর্শকের মনে যদি প্রশ্ন তৈরি হয় যে মাঠের ক্রিকেটের বাইরেও অন্য কোনো খেলা চলছে, তাহলে কোটি টাকা খরচ করে স্টেডিয়াম সাজিয়েও সেই টুর্নামেন্টের মূল্য বাড়ানো কঠিন।

বিপিএলের স্থায়ী কাঠামোই নেই

প্রতি বছরই যেন নতুন করে বিপিএল আবিষ্কার করতে হয়। কখনো দলের সংখ্যা বদলায়, কখনো মালিকানা বদলায়, কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি বদলায়। কখনো শেষ মুহূর্তে দল নিয়ে সমস্যা হয়, আবার কখনো নতুন নিয়ম আসে—পরের বছর সেটিই বদলে যায়।

এভাবে কোনো স্পোর্টস ব্র্যান্ড গড়ে ওঠে না।

বিশ্বের সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে দলগুলোর মালিকানা, আর্থিক কাঠামো, বাণিজ্যিক অধিকার, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে। পুরো ব্যবস্থাই চলে একটি সুসংগঠিত কাঠামোর মধ্যে।

বিপিএলে সেই স্থায়িত্বের ঘাটতিই বড় সমস্যা।

বিসিবি নিজেই যখন দায় নিচ্ছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব অভিযোগ এখন আর শুধু বাইরের সমালোচনা নয়। বিসিবির বর্তমান নেতৃত্বও সমস্যাগুলো স্বীকার করছে।

তামিম বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছে এবং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ম মানতে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত বিসিবিকেই তার দায় নিতে হয়েছে। তাঁর হিসাবে, গত দুই বছরে বোর্ডের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ বিপিএলের ব্যবসায়িক মডেল এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে ঝুঁকি নিচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি; কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যর্থ হলে ক্ষতির বড় অংশ বহন করছে বিসিবি।

এটি কোনো টেকসই ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল হতে পারে না।

৪০ কোটি টাকার হিসাবও হতে হবে স্বচ্ছ

তামিমের ৪০ কোটি টাকা লোকসানের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর এ হিসাব নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। এই বিতর্কের সমাধানও খুব কঠিন নয়—নিরপেক্ষভাবে একটি অডিট করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

বিপিএলের গত দুই মৌসুমে বিসিবির আয় কত? ব্যয় কত? ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কত টাকা দিয়েছে? কত টাকা বকেয়া? খেলোয়াড়দের পাওনা মেটাতে বোর্ডকে কত টাকা দিতে হয়েছে? সম্প্রচার স্বত্ব থেকে কত আয় হয়েছে? স্পনসরশিপ থেকে কত এসেছে? টিকিট ছাপাতে কত খরচ হয়েছে এবং টিকিট বিক্রি থেকে আয় কত?

এসব হিসাব প্রকাশ করা হোক।

তাহলেই বোঝা যাবে ৪০ কোটি টাকার লোকসান কোথায় তৈরি হয়েছে। স্বচ্ছতা ছাড়া বিপিএল সংস্কারের প্রথম দাবিটিই পূরণ হবে না।

তাহলে কি বিপিএল শেষ?

না। তামিমও বিপিএল চিরতরে বন্ধ করার কথা বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, এটি ভালো একটি পণ্য এবং মানুষের আগ্রহ রয়েছে। সমস্যা টুর্নামেন্টের ধারণায় নয়, পরিচালনার পদ্ধতিতে।

এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। বিপিএল বাতিল করা আর ‘চিকিৎসার’ জন্য বিপিএলকে থামিয়ে রাখা এক কথা নয়।

এক বছর বিরতি নিলে ক্রিকেটাররা কিছুটা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এটিও বাস্তবতা। কিন্তু একটি অসুস্থ টুর্নামেন্টকে শুধু ক্যালেন্ডারে রাখার জন্য চালিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে।

এখন যা প্রয়োজন

১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক অডিট।

২. ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা দেওয়ার আগে কঠোর যাচাই। কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, মালিকানার উৎস, পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক রেকর্ড এবং অর্থের উৎস যাচাই করতে হবে।

৩. কার্যকর ব্যাংক গ্যারান্টি নিশ্চিত করা। কাগজে নয়, বাস্তবে।

৪. খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তাদের ব্যাংক হিসাবে নিশ্চিত করতে হবে।

৫. দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা। ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. দীর্ঘমেয়াদি ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তি করা। প্রতি বছর মালিকানা বদলালে কোনো শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি হয় না।

৭. বিপিএলের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা। দর্শক ও ক্রিকেটারদের জানার অধিকার রয়েছে তাঁদের প্রিয় টুর্নামেন্ট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

৮. বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে পেশাদার করা। ক্রিকেট প্রশাসনের পাশাপাশি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, আইন, বিপণন ও দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তিদের যুক্ত করতে হবে।

‘অসুস্থ টুর্নামেন্ট’ চালানোর চেয়ে চিকিৎসা জরুরি

বিপিএলে প্রতি বছর নতুন দল এসেছে, জার্সিতে নতুন রং লেগেছে, নতুন বিদেশি ক্রিকেটার এসেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে, ম্যাচ হয়েছে, দর্শক এসেছে, বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে।

কিন্তু বিপিএল ক্রমেই নানা সমস্যায় ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থ দেয়নি, বিসিবি দায় নিয়েছে। খেলোয়াড় টাকা পাননি, বোর্ডকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নিয়ম মানা হয়নি, তবু দল খেলেছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, আবার তদন্ত হয়েছে।

এরপরও পরের বছর একই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চক্র ভাঙার জন্যই এবার থামা দরকার।

এক বছর বিপিএল না হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট থেমে যাবে না। বরং সেই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বচ্ছ, আর্থিকভাবে টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য লিগ তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতের বিপিএল আরও শক্তিশালী হতে পারে।

বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের বোঝা হওয়ার কথা নয়; হওয়ার কথা সম্পদ।

তাই এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—‘এ বছর বিপিএল কেন হচ্ছে না?’ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—‘এতদিন কেন এমনভাবে বিপিএল চালানো হলো?’

এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত মাঠে ফেরার তাড়া দেখানোর প্রয়োজন নেই। অসুস্থ টুর্নামেন্টকে বাঁচিয়ে রাখার নাম ক্রিকেট নয়। আগে রোগ নির্ণয়, তারপর চিকিৎসা, এরপর মাঠে ফেরা।

বিপিএলের ক্ষেত্রেও বিসিবির সে পথেই হাঁটা উচিত।

এখন দেখার বিষয়, এই সংস্কারে কতটা সাহস দেখাতে পারে বিসিবি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad