বিয়ের কয়েক ঘণ্টার পর নববধূকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ছাত্রদল কর্মীর স্ট্যাটাস ঘিরে চাঞ্চল্য

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ দুপুর
  • ৬৯১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
মাইক্রোবাস থামিয়ে নববধূকে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ; প্রেমের সম্পর্কের কথা বলছে পুলিশ

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পথে নববধূকে মাইক্রোবাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হাজিপুর বাজার এলাকায় রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ লেখা একটি স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আতিকুর স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয় রোববার। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিয়ে শেষে বর ও বরযাত্রীরা নতুন বউকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বরের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটি ঘিরে ফেলেন। এ সময় তারা গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। একপর্যায়ে তামান্না আক্তারকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। আকস্মিক ঘটনায় বরযাত্রীদের অনেকেই পরিস্থিতি বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়, তামান্নার সঙ্গে আতিকুর রহমান মিয়াদের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি এলাকায় আলোচিত ছিল।

এরই মধ্যে আতিকুর রহমান মিয়াদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ লেখা একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

আতিকুর রহমান মিয়াদ হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা হিসেবে আতিকুর ‘ডিউটি পাস’ পেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব বলেন, ‘আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী। তবে কীভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ডিউটি পাস পেয়েছিলেন, তা আমার জানা নেই।’

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ বলেন, আতিকুর রহমান মিয়াদ ছাত্রদলের কর্মী। তবে তার কর্মকাণ্ড অত্যন্ত অন্যায়। রোববারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, মেয়ের পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পরিবার মেনে নেয়নি। এ কারণেই ওই তরুণ এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও নববধূকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad