শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ফল অনুযায়ী, সহসভাপতি পদে নাশরা নাইম ৭ হাজার ৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৫ হাজার ৮১৮ ভোট। অর্থাৎ ১ হাজার ২৭৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি।
নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কার্যনির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্য পদের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন নারী প্রার্থীরা। ফলে ছাত্র সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিকে ছাত্র সংসদের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ নোমান আশরাফ। তিনি ৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ হামদান।
এএমইউ ছাত্র সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোর্ট নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক জাভেদ তালিব এবং উইমেনস কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক নাজিয়া হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের টানা তিন বছরের আন্দোলনের পর দীর্ঘ আট বছর বিরতি দিয়ে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর গুরুত্ব ছিল বিশেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের ভাষ্য, চলমান ‘জেন জি’ আন্দোলনের প্রভাবও নির্বাচনে পড়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর মতো শুধু ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক দাবি-দাওয়ায় প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ভারতের সামগ্রিক রাজনীতি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বিষয়ও শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উঠে এসেছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুন। তিনি এ নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠানের ‘উচ্চ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি নারী প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিনিধিত্বকে স্বাগত জানিয়ে নারী ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণা ও ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
এ নির্বাচনে নাশরা নাইমের বিজয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক