রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দায় নির্ধারণে আগামী ১৯ নভেম্বর রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আদালতের শান্তি প্রাসাদে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় প্রকাশ্য অধিবেশনে এ রায় পড়বেন আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি ইউজি ইওয়াসাওয়া।
২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযান, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা এ মামলার রায় আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে। আদালত মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী ঘোষণা করলে রাষ্ট্র হিসেবে দেশটির জবাবদিহির প্রশ্নটি নতুন মাত্রা পাবে।
গত মঙ্গলবার আদালত রায় ঘোষণার তারিখ জানায়। এ রায় চূড়ান্ত ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে বিচারাধীন অন্য মামলাগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রে এ রায়ের আইনি গুরুত্ব থাকতে পারে।
যেভাবে শুরু হয় গণহত্যার মামলা২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।
২০১৮ সালে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত মিশন জানায়, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল বলে ধারণা করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের সুপারিশ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে দায়ের করা এ মামলায় ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।
গাম্বিয়ার যুক্তি, গণহত্যা সনদে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি রাষ্ট্রেরই এ সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও গণহত্যার অভিযোগে অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার গাম্বিয়ার রয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের তৎকালীন বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি নিজে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে উপস্থিত হয়ে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত অন্তর্বর্তী আদেশে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা সনদের আওতায় থাকা অধিকার অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাস্তব ও আসন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারকে গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং এ-সংক্রান্ত প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২২ সালের জুলাইয়ে মামলাটি শুনানির এখতিয়ার নিয়ে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করে দেন আদালত। পরে ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি মামলার মূল বিষয়ের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রোহিঙ্গা সাক্ষীদের রুদ্ধদ্বার কক্ষে জবানবন্দি নেওয়া হয়।
মামলায় গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের বাইরে আরও ১১টি রাষ্ট্র অংশ নিয়েছে। দেশগুলো হলো বেলজিয়াম, কানাডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, মালদ্বীপ, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া ও যুক্তরাজ্য।
গণহত্যার অভিযোগে দুই পক্ষের অবস্থানগাম্বিয়ার অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডের একমাত্র যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা হলো, তাদের উদ্দেশ্য ছিল এ জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা।
১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদে গণহত্যার যে চার ধরনের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে অভিযোগ সাজিয়েছে গাম্বিয়া। এগুলো হলো—হত্যাকাণ্ড, শারীরিক বা মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতি করা, কোনো জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো জীবনযাপনের পরিস্থিতি তৈরি করা এবং জন্ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নেওয়া।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী অ্যান্টোনিয়া মুলভির ভাষ্য অনুযায়ী, গাম্বিয়া প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা হত্যার তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেছে। তবে এটি প্রকৃত হত্যার সংখ্যার চেয়ে কম বলে তাঁর ধারণা। এ ছাড়া কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের বিয়ে, সন্তান জন্মদান, চলাচল ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধের বিষয়টিও মামলায় তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে মিয়ানমারের দাবি, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিল সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। দেশটি জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের বিরোধিতাও করেছে।
মিয়ানমারের বক্তব্য, সেনাবাহিনীর লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করা, গণহত্যা সংঘটন নয়। তবে গাম্বিয়ার দাবি, সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, সহিংসতার ধরন ও নৃশংসতা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।
যৌন সহিংসতার ভয়াবহতা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণরোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন সহিংসতার ব্যাপকতা ও ধরন মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
২০১৭ সালে জাতিসংঘের হয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা তদন্ত করেছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী অ্যান্টোনিয়া মুলভি। তিনি মিডল ইস্ট আইয়ের ‘এক্সপার্ট উইটনেস’ পডকাস্টে বলেন, গণহত্যার অভিযোগের পক্ষে গাম্বিয়ার যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও রাথিডং এলাকায় একই ধরনের নির্যাতনের ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে। সেনারা প্রথমে গ্রাম ঘিরে ফেলত, এরপর গুলি চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন দিত। পরে নারী ও কিশোরীদের বেছে নিয়ে ধর্ষণ করত।
বেঁচে যাওয়া নারীদের কাছ থেকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, পরিবারের সদস্যদের সামনে যৌন নির্যাতন, সামরিক শিবিরে আটকে রাখা এবং যৌনাঙ্গ বিকৃত করার মতো ঘটনার বিবরণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
এক নারী মুলভিকে জানিয়েছিলেন, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে নয়জন পুরুষ ধর্ষণ করেছিল। তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন সেনাসদস্য। ওই ঘটনায় তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদনে ওই নারীর বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও তা উপস্থাপন করা হয়।
১৯৯৮ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে ধর্ষণকেও গণহত্যার শামিল হিসেবে বিবেচনার আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও এ আইনি নীতি স্বীকার করেছেন। তবে যৌন সহিংসতার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রকে সরাসরি গণহত্যার জন্য দায়ী করেনি আদালত।
মুলভির মতে, এবার এমন সিদ্ধান্ত এলে তা হবে ঐতিহাসিক।
আন্তর্জাতিক আইনে কেন গুরুত্বপূর্ণ এ রায়গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় মূল বিষয়ের ওপর এটি হবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের তৃতীয় রায়। এর আগে ২০০৭ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল বলে রায় দেন আদালত। তবে গণহত্যা প্রতিরোধ ও অপরাধীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সার্বিয়াকে দায়ী করা হলেও সরাসরি গণহত্যা সংঘটনের জন্য দেশটিকে দায়ী করা হয়নি।
২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার করা মামলায় সার্বিয়ার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায় দেন আদালত।
এবারের মামলায় বিচারকদের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হলো, গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণে ‘একমাত্র যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা’ পরীক্ষাটি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে।
গণহত্যা প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিন্তু এ ধরনের উদ্দেশ্যের সরাসরি লিখিত নির্দেশনা বা নথি না থাকলে সামগ্রিক ঘটনা, সহিংসতার ধরন ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তা নির্ধারণ করতে হয়।
গাম্বিয়ার দাবি, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা, হত্যাকাণ্ড, পরিকল্পিত ধর্ষণ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক নীতি গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণ করে।
অন্যদিকে মিয়ানমারের বক্তব্য, এসব ঘটনার বিকল্প যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা রয়েছে এবং সেনাবাহিনী আরসার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করেছিল।
ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সহকারী অধ্যাপক ও আইসিজের সাবেক সহযোগী আইন কর্মকর্তা মাইক বেকার বলেন, তৃতীয় পক্ষের এতগুলো রাষ্ট্রের অংশগ্রহণে এ প্রথম কোনো মামলার মূল বিষয়ে রায় দিতে যাচ্ছে আদালত। তাঁর মতে, এ মামলার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ভূমিকা ও কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ পরিধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার ও নাগরিকত্বরোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা চান, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী ঘোষণা করুন। একই সঙ্গে তাঁদের জমি ও সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হোক।
তবে তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়া। মুলভির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের আওতায় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে।
মাইক বেকারের মতে, মিয়ানমারকে গণহত্যার জন্য দায়ী ঘোষণা করা হলে রোহিঙ্গাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। তবে ক্ষতিপূরণসহ প্রতিকারের বিষয়টি আদালত পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচনা করতে পারেন।
রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার ও বৈষম্যহীনতা নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ আইন ও ব্যবস্থায় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হলে তা হবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
মুলভি বলেন, কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের কথা ভুলে যাননি। তাঁরা অন্তত তাঁদের ওপর সংঘটিত অপরাধের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চান।
রায় বাস্তবায়নে কী চ্যালেঞ্জআন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় মেনে চলতে মিয়ানমার আইনগতভাবে বাধ্য। দেশটি রায় বাস্তবায়ন না করলে গাম্বিয়া বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে পারবে। তবে নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত আইসিজের কোনো রায় বাস্তবায়নে এ ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।
মাইক বেকারের মতে, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আদালতের রায় কার্যকর করা কঠিন হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার শর্ত হিসেবে রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েন। পরে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট আইনপ্রণেতাদের নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে।
এদিকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন ও নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কৌঁসুলি। তবে এ আবেদনের বিষয়ে বিচারকেরা এখনো প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার একটি আদালত মিয়ানমারের ২৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। তাঁদের মধ্যে মিন অং হ্লাইং ও অং সান সু চিও রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আসন্ন রায় ইউক্রেন বনাম রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইসরাইল, নিকারাগুয়া বনাম জার্মানি এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র বনাম রুয়ান্ডার মতো বিচারাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী ১৯ নভেম্বরের রায় শুধু রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নেই নয়, গণহত্যার দায় নির্ধারণ, রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে আদালতের রায় কী হবে এবং তা বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি আসবে, এখন সেই অপেক্ষায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই (Middle East Eye); আমার দেশ, ৬ নভেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক