গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের নতুন উদ্যোগ, গঠিত হচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ দুপুর
  • ১৩৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিকল্প উদ্যোগ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এ লক্ষ্যে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি। প্রস্তাবিত পরিষদে জোটের সংসদ সদস্য ও শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের অংশীজনদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে পরিষদ গঠনের খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। পরে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক সভায় সংবিধান সংস্কারের খসড়া রূপরেখা তৈরি, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং এ বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিষদ গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠনের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে এ পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৫ সদস্যের পরিষদের প্রস্তাব

জোটের আরেকটি সূত্র জানায়, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠনে ১৫ সদস্যের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। তবে সেটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আযাদ, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আইনজীবী শিশির মনির এবং শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম। ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলগুলোও নিজেদের প্রতিনিধিদের নাম প্রস্তাব করবে।

পরিষদ গঠনের পর সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ কমিটি নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষাপট

সংবিধান সংস্কার নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সঙ্গে বিরোধী জোটের মতপার্থক্যের মধ্যেই নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি সদস্যপদ খালি রাখা হলেও জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের কোনো প্রতিনিধির নাম প্রস্তাব করেনি।

বিরোধী দলের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বৈধ নয়। তাদের দাবি, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। সংসদের অধিবেশন আহ্বানের আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং সরকার নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

এ কারণেই কমিটির গঠনপ্রক্রিয়াকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে এতে প্রতিনিধি দেয়নি বিরোধী জোট।

গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। তবে ওই বৈঠকেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো শরিক দল অংশ নেয়নি।

সব মিলিয়ে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধী জোটের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন এই পরিষদ গঠনের উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad