নারীসংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে অবশেষে বক্তব্য দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনাকে আলেমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি দাবি করেছেন, অতীতেও একই কায়দায় আলেমদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বগুড়ার একটি ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের নাম উল্লেখ করে তার সাম্প্রতিক অভিযোগের জবাব দেন আমির হামজা।
মাহফিলে আমির হামজা বলেন, যারা আলেমদের পেছনে লেগে থাকেন, তাদের নিজেদের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর পদ পাওয়ার যোগ্যতা নিয়েও তিনি কটাক্ষ করেন।
সাঈদীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টানলেন
বক্তব্যে আমির হামজা প্রয়াত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অতীতে ছড়ানো কথিত অডিওর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রিমান্ডে থাকাকালে তাকে মোবাইলে এমন একটি অডিও শোনানো হয়েছিল, যেখানে সাঈদীর কণ্ঠস্বর নকল করে নারীর সঙ্গে কথোপকথন উপস্থাপন করা হয়।
তার ভাষ্য, সে সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের অডিও তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানেও আলেমদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অপপ্রচারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমির হামজা বলেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশে তিনি যে বদদোয়া করেছিলেন, তা স্মরণ করেই বগুড়ার মাহফিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। যারা আলেমদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তাদের বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, অতীতে সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিতর্কের পেছনেও ভারতের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
৬ নভেম্বর অডিও প্রকাশের দাবি রাশেদ খাঁনের
এর আগে গত ৬ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমির হামজার কথোপকথনের অডিও প্রকাশের দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, আমির হামজাকে ঘিরে নারীসংক্রান্ত কিছু অডিও ও ভিডিও তার হাতে এসেছে। সেগুলো যাচাই করে তথ্যের সত্যতা পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশ প্রকাশ করে অডিওর লিংক কমেন্ট বক্সে দেওয়ার কথা জানান।
প্রকাশিত বলে দাবি করা অডিওতে এক ব্যক্তিকে ক্ষমা চাওয়া, অনুতপ্ত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা, উৎস এবং এতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, রাশেদ খাঁন আমির হামজাকে ঘিরে অডিও-ভিডিও থাকার বিষয়ে অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে যুগান্তর।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক