নিষেধাজ্ঞার ফাঁদে ইরানের শত বিলিয়ন ডলার: কোথায় আটকে আছে এই বিপুল অর্থ?

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ জুন ২০২৬, ০২:২০ দুপুর
  • ৮৪৬৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইরানের বিপুল বৈদেশিক সম্পদ—যার পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার—বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলারনির্ভর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে এই অর্থ তেহরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গেছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে এই আটকে থাকা অর্থ মুক্ত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে দেশটি বিদেশে থাকা সম্পদ ফেরত আনার চেষ্টা জোরদার করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান দাবি করছে তাদের মোট ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ বিভিন্ন দেশে আটকে আছে। তবে বাস্তব হিসাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অর্থ কোথায়?

বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সবচেয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে চীনে। দেশটিতে প্রায় ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল জমা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত দীর্ঘদিনের তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থ ডলার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি ইরানে পৌঁছায়নি।

এই অর্থের একটি অংশ চীনা পণ্য ও প্রযুক্তি আমদানিতে ব্যবহৃত হলেও বড় একটি অংশ এখনো আটকে রয়েছে বলে জানা যায়।

অন্যান্য দেশেও আটকে তহবিল

ইরাক: বিদ্যুৎ ও গ্যাস বাণিজ্য বাবদ প্রায় ১০–১৫ বিলিয়ন ডলার

দক্ষিণ কোরিয়া: আনুমানিক ৭ বিলিয়ন ডলার

ভারত: প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ক্রেতা। নিষেধাজ্ঞার পর অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ায় এই তহবিলগুলো আটকে যায়।

কেন আটকে আছে এই অর্থ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি লেনদেন সাধারণত ডলারভিত্তিক হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সরাসরি ইরানের ওপর পড়ে। ফলে তেল বিক্রির অর্থ অনেক সময় সরাসরি তেহরানে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পণ্য আমদানি বা লেনদেন সমন্বয়ের মাধ্যমেই ব্যবহৃত হয়েছে, তবে বড় অংশ এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এসব আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের আলোচনায় এই অর্থের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম (ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, গালফ নিউজ)




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad