বন্ধুর ফোন এলেই কি ক্লান্তি লাগে? জেনে নিন ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ দুপুর
  • ৭৬৮৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি-সংগৃহীত

একসময় যে বন্ধুর ফোন এলেই মুখে এক চিলতে হাসি ফুটতো, এখন সেই বন্ধুর নামটি মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠলেই মন মেতে ওঠে এক অদ্ভুত অস্বস্তিতে। কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে যায়, দেখা করার পরিকল্পনা শুনলেও যেন এক ধরনের মানসিক ক্লান্তি গ্রাস করে। অনেকেই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে গেলেও এর আসল কারণ বুঝতে পারেন না। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো আকস্মিক উদাসীনতা নয়, বরং এটি হতে পারে ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’ (Friendship Burnout) বা বন্ধুত্বজনিত মানসিক ক্লান্তির লক্ষণ।

​সাধারণত বন্ধুত্বকে আমরা আনন্দ, নির্ভরতা ও মানসিক স্বস্তির নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই দেখি। কিন্তু সব সম্পর্কের সমীকরণ সবসময় এক থাকে না। কিছু বন্ধুত্ব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে একজন ক্রমাগত নিজের সময়, মনোযোগ ও আবেগ বিনিয়োগ করে যান; কিন্তু অন্যজন সেই সম্পর্কের প্রতি সমান গুরুত্ব বা মূল্যায়ন দেখান না। এই দীর্ঘমেয়াদী অসমতা ধীরে ধীরে মনের অজান্তেই তীব্র মানসিক ক্লান্তির জন্ম দেয়।

​কেন হয় এই ‘ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট’?

​মনো বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধুত্বে দেওয়া ও পাওয়ার (Give and Take) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে সম্পর্কটি আর স্বস্তির উৎস থাকে না। বরং তা এক ধরনের সামাজিক দায়িত্ব বা মানসিক চাপের অনুভূতি তৈরি করে। এর পেছনে অন্যতম বড় একটি কারণ হলো ‘ইমোশনাল ডাম্পিং’ (Emotional Dumping)

ইমোশনাল ডাম্পিং কী?

যখন কোনো বন্ধু নিজের হতাশা, রাগ, দুঃখ বা ব্যক্তিগত সমস্যার ভার বারবার অন্য বন্ধুর ওপর চাপিয়ে দেন, কিন্তু বিনিময়ে অপরপক্ষের অনুভূতির প্রতি কোনো মনোযোগ দেন না, সেটাই ইমোশনাল ডাম্পিং।


​এর ফলে একজন ব্যক্তি শুধু অনবরত অন্যের নেতিবাচক কথা শুনতে শুনতে মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে পড়েন। একটা সময় দেখা যায়, বন্ধুর ফোনকল এলেই মনে হয়—আবার হয়তো কোনো নতুন সমস্যার কথা শুনতে হবে। কথোপকথন শেষে স্বস্তি পাওয়ার বদলে নিজেকে আরও বেশি অবসন্ন ও ক্লান্ত লাগে।

​প্রধান লক্ষণসমূহ

​গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত সামাজিক চাপ ও সম্পর্ক ধরে রাখার অবিরাম মানসিক প্রচেষ্টা মানুষকে বার্নআউটের দিকে ঠেলে দেয়। এর প্রধান কিছু লক্ষণ হলো:

দেখা করার আগেই ক্লান্তি: যে মানুষটির সঙ্গে একসময় সময় কাটাতে ভালো লাগতো, এখন তার সঙ্গে দেখা করার কথা ভাবলেই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করে। ​যোগাযোগে দূরত্ব: ফোনকল না ধরা, মেসেজের উত্তর দিতে ইচ্ছাকৃত দেরি করা কিংবা শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বাতিল করার ইচ্ছা বেড়ে যাওয়া। ​একতরফা দায়িত্ব মনে হওয়া: বন্ধুত্বকে আনন্দের চেয়ে একটি কঠিন দায়িত্ব মনে হওয়া।

​বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এমন অনুভূতি হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি একজন খারাপ বন্ধু। বরং এটি আপনার শরীর ও মনের একটি স্বাভাবিক সতর্কবার্তা যে, এই সম্পর্কটি থেকে আপনি প্রয়োজনীয় মানসিক শক্তি পাচ্ছেন না।

​মুক্তির উপায়: সমাধান কি সম্পর্ক ছিন্ন করা?

​মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফ্রেন্ডশিপ বার্নআউট হলেই সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করা একমাত্র সমাধান নয়। বরং এর জন্য প্রয়োজন কিছু সুস্থ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ:

স্বাস্থ্যকর সীমারেখা (Boundary) তৈরি করা: বন্ধুত্ব মানেই ২৪ ঘণ্টা সবার জন্য প্রস্তুত থাকা নয়। নিজের মানসিক সুস্থতাকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শেখা কোনো স্বার্থপরতা নয়। ​কিছুটা বিরতি নেওয়া: বর্তমান ডিজিটাল যুগে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের সংস্কৃতি সম্পর্ককে আরও চাপের করে তোলে। তাই প্রয়োজন হলে কিছুটা বিরতি নেওয়া বা স্বল্প যোগাযোগ বজায় রাখা যেতে পারে। ​খোলামেলা কথা বলা: নিজের মানসিক ক্লান্তির কথা বন্ধুকে মৃদু ও স্পষ্ট ভাষায় জানানো যেতে পারে। ​সব সমস্যার সমাধানকারী না হওয়া: কোনো বন্ধু সমস্যা শেয়ার করলে সঙ্গে সঙ্গেই তা সমাধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া ঠিক নয়। পরামর্শ দেওয়ার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে—সে কি শুধু মন হালকা করতে চায়, নাকি সমাধান খুঁজছে?



কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad