বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনের জার্সিতে একটি আন্তর্জাতিক গোলও ছিল না পেদ্রো পোরোর। অথচ সেই ডিফেন্ডারই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে হয়ে উঠেছেন দলের অন্যতম নায়ক। টটেনহ্যাম হটস্পারের এই তারকার দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।
হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ডান প্রান্তে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দায়িত্বই সমান দক্ষতায় পালন করেন পোরো। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেস্তে দেওয়ার পাশাপাশি একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলের জয়েও বড় অবদান রাখেন তিনি। অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় পোরো বলেন, ‘এটা স্বপ্নপূরণের মতো অনুভূতি। সত্যি বলতে, এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ ফুটবল খেলেছি এবং ফাইনালে ওঠার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই করেছি।’
ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর কৃতিত্ব নিজের একার নয় বলে উল্লেখ করেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু আমার অর্জন নয়, পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সবাই অসাধারণ খেলেছে। এমন পারফরম্যান্সের জন্য দলের প্রতিটি সদস্যই প্রশংসার দাবিদার।’
ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পোরো জানান, ফ্রান্সের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ ঠেকানোই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। তার ভাষায়, ‘আমরা জানতাম, বলের দখল ধরে রাখতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই থাকবে। কারণ, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের কাউন্টার অ্যাটাক। সেটি নিষ্ক্রিয় করাই ছিল আমাদের প্রধান পরিকল্পনা।’
শেষ দিকে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে মাঠ ছাড়তে হলেও তাতে কোনো আক্ষেপ নেই পোরোর। তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক কত মিনিটে বদলি হয়েছি মনে নেই। তবে তখন আমার আর দেওয়ার মতো কিছুই বাকি ছিল না। আমরা ২৬ জন মিলে এই জয় অর্জন করেছি।’
ফাইনালের আগে ক্লান্তি থাকলেও শিরোপা জয়ের লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে যেতে রাজি নন এই স্প্যানিশ তারকা। সমর্থকদের উদ্দেশে তার দৃঢ় বার্তা, ‘এই মুহূর্তে আমি খুব ক্লান্ত। তবে আমরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াব এবং ফাইনালে আবারও সবকিছু উজাড় করে দেব।’

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স