সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে আবেগঘন একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর। পোস্টে তিনি সংসদ ভবনের মসজিদে বাবরের দীর্ঘ সিজদা, আল্লাহর প্রতি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা এবং অতীতের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন।
মাবরুর জানান, সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশন চলাকালে একদিন মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য সংসদ ভবনের মসজিদে যান তিনি। ফরজ ও সুন্নত নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাঁর চোখে পড়ে, এক ব্যক্তি কয়েক মিনিট ধরে সিজদায় মগ্ন রয়েছেন। কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তিনি লুৎফুজ্জামান বাবর।
কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর নামাজ শেষ হলে বাবরের সঙ্গে কথা বলেন মাবরুর। তিনি বাবরকে স্মরণ করিয়ে দেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁর বাবা আলী আহসান মুজাহিদ ও বাবর সহ-আসামি ছিলেন। সে সময় আদালতে যাতায়াতের সুবাদে বাবরের সঙ্গে তাঁর বহুবার দেখা হয়েছে এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতিও রয়েছে।
মাবরুরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিচয় জানার পর বাবর আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং মুজাহিদ পরিবারের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, মুজাহিদ তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
পরে বাবরের দীর্ঘ সিজদার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি পারতাম, সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকতাম। আমার ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি। আল্লাহ আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। অপমানের জীবন থেকে আজকের অবস্থানে এনেছেন। ১৭ বছর কারাগার ও কনডেম সেলের জীবন পার করে আবার সংসদে ফিরিয়ে এনেছেন। আমি যদি সারাদিন সিজদা করি, তবুও আল্লাহর শুকরিয়ার হক আদায় হবে না।”
মাবরুর লেখেন, বাবরের এ কথাগুলো এবং তাঁর দীর্ঘ সিজদার দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তাঁর মতে, আল্লাহ অনেক মানুষকেই কঠিন অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ দেন, কিন্তু সবাই সেই নিয়ামতের প্রতি এমন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন না। অনেকেই অতীতের দুঃসময় ভুলে যান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অনেকেই বাবরের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। তবে সেদিন নিজেই বাবরের সঙ্গে একটি ছবি তোলার অনুরোধ করেন। জবাবে বাবর বলেন, “আমার আংকেলের সঙ্গে তো আমিই ছবি তুলব। তোমরা মজলুম পরিবার। আল্লাহ তোমাদের ভালো রাখুন।”
আলী আহমাদ মাবরুরের এই ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে বাবরের দীর্ঘ কারাবাস, আল্লাহর প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা এবং বিনয়ী মনোভাবের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক