২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। বুধবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী, বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা, সাধারণ প্যাকেজ ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৫ টাকা। হাব জানিয়েছে, সর্বনিম্ন প্যাকেজেও হজ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা ও সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ২০২৭ সালের সরকারি হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ-১ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৬ সালের তুলনায় হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে এই ভাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা ছিল এবং ২০২৫ সালে তা ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ২০২৭ সালের হজে আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবুসহ বিভিন্ন সেবাকে সমন্বিত প্যাকেজের আওতায় এনেছে। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় চারটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকলেও এবার তা কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। পাশাপাশি হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা হজযাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত বছরের তুলনায় হজ ব্যয় প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন প্যাকেজে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কিন্তু এবার বাধ্যতামূলক ক্যাটারিং, সার্ভিস প্যাকেজে পরিবর্তন এবং সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে তুলনা করলে ২০২৭ সালের সরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজে প্রকৃত ব্যয় ২৮ হাজার ৬৩ টাকা কমেছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও নতুন সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করে হজ ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া তারা যেন অবস্থানরত দেশ থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করছে সরকার।
সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর আওতায় মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা এবং মিনা-আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
অন্যদিকে, হজ প্যাকেজ-২-এর হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে, মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। হোটেল দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সালাওয়াত বাস সুবিধা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক