ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট এবং প্রতারণামূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা যাবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন এক ঘোষণায় জানান, নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি ভিডিও জমা দিতে হবে। এরপর ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিডিওটি ব্যবহারকারীর বর্তমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে।
মেটা জানিয়েছে, এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টকে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে পরিচালিত হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ভেরিফায়েড ব্যাজটি ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ফেসবুক ডেটিংসহ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, নতুন এই ব্যাজ আগের প্রচলিত ভেরিফায়েড ব্যাজের মতো কোনো সেলিব্রিটি, প্রতিষ্ঠান বা কনটেন্টের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়। এটি কেবল নিশ্চিত করবে যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন প্রকৃত ব্যক্তি রয়েছেন। একই সঙ্গে এটি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া মেটা ভেরিফায়েড সেবার বিকল্পও নয়।
মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতারকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং কাল্পনিক তথ্য দিয়ে অসংখ্য নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুল পরিমাণ বার্তা ছড়িয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। নতুন পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা এ ধরনের জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে ব্যবহারকারীদের জন্য টিকটকের আদলে ফুল-স্ক্রিন ইমারসিভ ভিডিও অভিজ্ঞতা পরীক্ষামূলকভাবে চালুরও ঘোষণা দিয়েছে মেটা। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারী এই সুবিধা পাবেন। তবে তারা চাইলে আগের ফিডভিত্তিক ইন্টারফেসেও ফিরে যেতে পারবেন।
মেটা আরও জানিয়েছে, নতুন বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পেজ বা প্রোমোটেড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। আগামী সোমবার থেকে ধাপে ধাপে ফিচারটি চালু করা হবে। শুরুতে এটি সীমিত কয়েকটি বাজারে উন্মুক্ত করা হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক