ভারতীয় ক্রিকেট দলের আসন্ন বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে ভারতের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা থাকলেও দুই দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সিরিজটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আশা ছাড়েনি। বোর্ডের কর্মকর্তারা সেপ্টেম্বরে সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী থাকার কথা জানালেও দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মাঝে সফর নিয়ে আশাব্যঞ্জক কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলেছে।
গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের কয়েকজন সদস্যকে দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়। গত ৮ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত যদি শেখ হাসিনাকে দিল্লি থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খর্ব করা এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির মতো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের কাছ থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করা বেমানান।
বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ক্রিকেটের মাধ্যমে সম্পর্কের বরফ গলানোর বিষয়ে বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশাবাদ ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাও অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।
ভারতীয় দলের সফর হলে বিসিবি আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ পেত। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট দল ভারতকে আতিথ্য দেওয়া যেকোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের জন্যই বড় বাণিজ্যিক আকর্ষণের বিষয়। ভারতের ব্র্যান্ড মূল্য ও বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে তাদের সফর থেকে আয় ও দর্শক আগ্রহ—দুই দিক থেকেই সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সিরিজের সম্ভাবনা নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এ বিষয়ে আমার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বোর্ড সভাপতি হিসেবে যতটা যাওয়ার, আমি ততটা গিয়েছি। সীমা অতিক্রম করতে চাই না। বিসিসিআইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সিরিজ আনন্দদায়ক হয়। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না।’
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর তিনিও সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। তার ভাষ্য, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর এখন আমি সিরিজটি নিয়ে সন্দিহান। ভারতের পক্ষ থেকে সিরিজের ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। সত্যি বলতে, ২৮ আগস্টের মধ্যেই সিরিজটি আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। আমাদের হাতে আর কত দিনই বা আছে?’
সিরিজটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত বিসিবি আশা ছাড়তে চায় না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা শুধু আশা করে যেতে পারি।’
ভারতীয় ক্রিকেট দলের সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে দুই দলের পরবর্তী দ্বিপক্ষীয় সিরিজের জন্য অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স