নেত্রকোণায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
১০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি ও গ্রাহকদের অসন্তোষের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, নেত্রকোণা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নয়টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে নেত্রকোণার ১০টি এবং সুনামগঞ্জের দুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫৭ মেগাওয়াট।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৬০ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময় প্রকৃত লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭৯ শতাংশ।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর সরবরাহ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র একসঙ্গে চালু হয়। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করে গালিগালাজের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও চিঠিতে জানানো হয়।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে সমিতি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক