রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে কামরাঙ্গীরচর, বাড্ডা ও মুগদা এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাগুলোকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন—কামরাঙ্গীরচরের নয়ন (৩০), বাড্ডার রবিউল সানি (৩২) ও মুগদার সবুজ বাবু (২০)। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে তিনটি ঘটনার পেছনেই পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে।
দাম্পত্য কলহের পর নয়নের মৃত্যু
কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে হাসাননগর সিকদার স্কুলের সামনের গলির একটি ভবন থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নয়নের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নয়ন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি হাসাননগরে তার বোনের বাসায় থেকে অটোরিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাম্পত্য কলহের জেরে নয়নের স্ত্রী তাদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে নয়ন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন রবিউল
বাড্ডার জামতলা এলাকা থেকে রবিউল সানি (৩২) নামে আরেক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে স্বাধীনতা সরণির একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠতলার ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
বাড্ডা থানার এসআই জয়ন্ত দত্ত জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রবিউলকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
রবিউল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, চাকরি ও অফিস-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গেও তার মনোমালিন্য চলছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের কোনো এক সময় ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রবিউলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের আদর্শনগর এলাকায়। তিনি উত্তর বাড্ডার জামতলা এলাকায় বসবাস করতেন।
বাবার সঙ্গে বিরোধের পর সবুজের মৃত্যু
মুগদার পাগল চাঁন হোটেল-সংলগ্ন এলাকার একটি বাসা থেকে সবুজ বাবু (২০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসাটির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মুগদা থানার এসআই আবু তারেক দিপু জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে সবুজের লাশ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক দিন আগে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। এ বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি নিজের কক্ষে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সবুজের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ গুণগ্রাম এলাকায়। তার বাবার নাম বদু শেখ সুজন। বর্তমানে তিনি মুগদায় শফিক শেখের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনাতেই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক