ভূমিকম্প-সহনশীল শহর কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ দুপুর
  • ৪৬৯৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শিক্ষা নিয়ে গড়েছে নতুনভাবে

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিভিন্ন শহরে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হলেও আর্মেনিয়া শহরে কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। কোনো ভবনও ধসে পড়েনি। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, কঠোর নির্মাণনীতি এবং নিয়মিত দুর্যোগ মহড়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সোমবার সকালে কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ে এবং অন্তত ২৮৫ জন নিহত হন। আহত হন হাজারো মানুষ। উদ্ধার অভিযান চলার কারণে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।



কিন্তু ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪৩ মাইল দূরের প্রায় তিন লাখ মানুষের শহর আর্মেনিয়ায় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সেখানে কোনো ভবন ধসে পড়েনি, কাউকে উদ্ধার করতে হয়নি এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি।


কলম্বিয়ানরা এখন শহরটিকে ‘মিরাকল সিটি’ বা অলৌকিক শহর বলছেন। তবে প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগর পুনর্গঠনের ফল।


১৯৯৯ সালে আর্মেনিয়ায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর শহরটি নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়।


পুনর্গঠনের সময় শহরের মাটির ধরন ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করা হয়। নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ মাটিতে নতুন নির্মাণ নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে কঠোর ও আধুনিক ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়।


শুধু ভবন নির্মাণেই পরিবর্তন আনা হয়নি। শহরজুড়ে নিয়মিত ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবিলার মহড়াও চালু করা হয়। স্থানীয়দের বছরে অন্তত দুবার এ ধরনের মহড়ায় অংশ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।


আর্মেনিয়ার মেয়র জেমস পাদিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নেওয়া প্রস্তুতি এবং উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার উন্নয়নই শহরটিকে এবার বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণবিধি থাকলেও সব জায়গায় তা যথাযথভাবে মানা হয় না। অনিয়ন্ত্রিত ও নিম্নমানের নির্মাণ এখনো বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।


কলম্বিয়ার ভূমিকম্প ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ওমর কারদোনার মতে, ভূমিকম্পে টিকে থাকা ভাগ্যের বিষয় নয়; এটি মূলত বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং সঠিক পরিকল্পনার বিষয়।


১৯৯৯ সালের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শিক্ষা নিয়ে আর্মেনিয়া যে নতুন শহর গড়ে তুলেছিল, সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে সেই প্রস্তুতির কার্যকারিতাই আবারও প্রমাণিত হলো।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad