আইসিসি প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, স্বাধীনতায় ‘প্রকাশ্য হামলা’ বলল আদালত

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ রাত
  • ২৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আইসিসি বলেছে, এটি একটি নিরপেক্ষ বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার ওপর ‘প্রকাশ্য হামলা’ এবং আইনের শাসনের জন্য হুমকি।

বুধবার এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, বিচারক, কৌঁসুলি ও আদালতের কর্মীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিচারিক স্বাধীনতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে।

ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসিকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ও মারাত্মকভাবে রাজনীতিকীকৃত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জাপানের নাগরিক আকানে ২০২৪ সালের মার্চে আইসিসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অন্যদিকে আবদুলায়ে সেয়ে সেনেগালের নাগরিক এবং আদালতের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

ইসরাইলকে ঘিরে আইসিসির তদন্ত ও কার্যক্রমের জেরে এর আগে আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বিরোধিতা জাপান-ইইউর

আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে জাপান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি তোশিহিরো কিতামুরা এক বিবৃতিতে বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে আইসিসিকে সমর্থন করে আসছে। গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টায় টোকিও আইসিসির পাশে রয়েছে।

জাপান আইসিসির অন্যতম বড় অর্থদাতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

আকানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। পৃথক বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, তারা আকানে ও আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছেন। তাদের মতে, আইসিসির কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে এবং বাইরের কোনো চাপ ছাড়াই দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকতে হবে।

যে কারণে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তিরা এমন দেশগুলোর কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচারের আইসিসির প্রচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যেসব দেশ আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়নি।

এর জবাবে আইসিসি বলেছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের আইন প্রয়োগের কারণে হুমকির মুখে ফেলা হলে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তবে রুবিও তার বক্তব্যের সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি।

২০২৪ সালে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর আদালটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ আরও বাড়ে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের লেনদেনও নিষিদ্ধ থাকে।

আইসিসি ছাড়তে মিত্রদের আহ্বান

গত মাসে ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচার শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র আদালটিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে মিত্র দেশগুলোকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

এরই মধ্যে চাদ ও ভেনেজুয়েলা আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ধরনের প্রত্যাহারে উদ্বেগ জানিয়েছে আদালত। আইসিসির মতে, এসব পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়

যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করলেও তা কখনো অনুমোদন করেনি। ইসরাইল ও রাশিয়াও আইসিসির সদস্য নয়।

গত সপ্তাহে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ চারটি মানবাধিকার সংস্থা আইসিসিকে লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের একটি আদালতে মামলা করেছে। সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

এর আগে ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এর প্রতিক্রিয়ায় মস্কোও আকানেসহ আদালতের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজস্ব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad