বরিশাল নগরীতে তিন মেয়েকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নারী রিকশাচালক হেলেনা বেগম। স্বামী বহু বছর আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যাওয়ার পর ছোট তিন কন্যার একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছেন তিনি। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে প্রতিদিন রিকশার হ্যান্ডেল ধরে ছুটে চলেন নগরীর পথে।
হেলেনার এই জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফরিদা সুলতানা। বুধবার হেলেনাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে তার হাতে একটি রেইনকোট, একটি মোবাইল ফোন ও কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও।
ইউএনও ফরিদা সুলতানা জানান, প্রায় দুই মাস আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের একটি গ্রুপ রিচার্জের কাজে সদর উপজেলায় এসেছিল। তখন তাদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে একজন নারী রিকশা চালান। তার স্বামী বহু বছর আগে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছেন। এরপর তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, হেলেনা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় রিকশা চালান। রুপাতলী হাউজিং এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘরে তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। তার এক মেয়ে পড়াশোনা করছে এবং অন্য দুই মেয়ে কর্মহীন। পরিবারের খরচ চালাতে অন্যের কাছে হাত না পেতে নিজেই রিকশা চালিয়ে আয় করছেন হেলেনা।
ইউএনও জানান, হেলেনার বিষয়ে জানতে পেরে তিনি ওই শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছিলেন, নারী রিকশাচালককে পাওয়া গেলে যেন তার কাছে নিয়ে আসা হয়। বুধবার দুপুরে একজন শিক্ষার্থী হেলেনাকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে তার সঙ্গে কথা বলে তিন মেয়েকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তার জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন ইউএনও।
ফরিদা সুলতানা বলেন, বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে জীবিকার জন্য প্রতিদিন রিকশা চালাতে হয় হেলেনাকে। তাই তাকে একটি রেইনকোট দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও কিছুটা নিরাপদে কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও শুকনো খাবারও দেওয়া হয়েছে, যা তার দৈনন্দিন জীবনে সামান্য হলেও স্বস্তি আনবে বলে তিনি আশা করেন।
হেলেনার মতো একজন অসহায় নারীর পাশে দাঁড়িয়ে ইউএনও ফরিদা সুলতানার এই উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক