জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেলে এর দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান ও শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪-এর সদস্য তাসলিমা আখতার। তিনি বলেছেন, শিল্পের অব্যবস্থাপনা কিংবা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের বোঝা শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। শ্রমিককে সুরক্ষা দিয়েই শিল্পকে রক্ষা করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রম আইন ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তাসলিমা আখতার বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিকরা। তাই শিল্প ও শ্রমিক—উভয়ের স্বার্থে দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান করতে হবে। কোনো অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করা যাবে না।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হয় না, আইন বাস্তবায়নও জরুরি। শ্রম আইন ২০২৬-এ শ্রমিকের অধিকার শক্তিশালী করার যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে গড়িমসি হলে আইন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শ্রমিকের সংগঠন করার অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, বৈষম্য ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের একটি মিছিল পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপ্রধান নুরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল, নেতা সাবিনা আক্তার ও মামুন ইসলামসহ বিভিন্ন শাখার নেতারা। সংহতি জানান আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নুরুল হক এবং ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের আলিফ দেওয়ানসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই বছরে যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বিগত সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রভাবে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। দেশের প্রায় ৪০ লাখ পোশাক শ্রমিকের জীবিকা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত উল্লেখ করে তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে নানা অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে সরকারকে মালিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে। কর্মহারা শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা না হলে শ্রমিকের পাশাপাশি পুরো শ্রমখাতই সংকটে পড়বে।
শ্রমিকদের এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন নস্যাৎ করার কোনো অপচেষ্টা যাতে না হয়, সে বিষয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকার—সব পক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ