ডনের রিমান্ডে মিলতে পারে সালমান শাহ মৃত্যুর রহস্যের সূত্র

  • প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ দুপুর
  • ৪৫৭৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর মামলার তদন্তে নতুন করে গতি এসেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আশরাফুল হক ওরফে ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে। একই সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং পুরোনো নথি-আলামত নতুন করে পর্যালোচনা করায় সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো মামলার নথি, বিভিন্ন ব্যক্তির জবানবন্দি, চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র ও আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন। ঘটনার সময় ইস্কাটনের বাসায় উপস্থিত ব্যক্তিদের পুরোনো বক্তব্যও নতুন করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হলে তদন্তকারীরা জানতে চাইতে পারেন—১৯৯৬ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনি কোথায় ছিলেন, সালমান শাহর সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ কখন ও কোথায় হয়েছিল এবং মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল। একই সঙ্গে রাজসাক্ষী রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উল্লেখ করা ১২ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়। আদালতের নির্দেশে ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতার মুখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

ডনের গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। তার অভিযোগ, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সালমান শাহর মৃত্যুর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান।

নতুন তদন্তে এজাহারভুক্ত ১১ আসামির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে এজাহারের বাইরে থাকা সন্দেহভাজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যক্তি কিংবা অতীতে সন্দেহের তালিকায় থাকা অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

ডনের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে গত ১২ আগস্ট আদালত প্রাঙ্গণেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সালমান শাহর মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিবারের সদস্য শাহরানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে সম্প্রতি সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন। দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সালমান শাহ মামলার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা এরই মধ্যে আটবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই আদালত ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ডনের গ্রেপ্তার ও নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের গতিপথে পরিবর্তন এসেছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর মৃত্যু হয়। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তদন্তের আবেদন করেন।

১৯৯৭ সালে সিআইডির তদন্তে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার পরিবার দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালায়। পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

এরপর বনজ কুমারের নেতৃত্বে পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা-সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। ওই তদন্তে ৫৪ জনের সাক্ষ্য ও জব্দ করা আলামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি সালমান শাহর পরিবার।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার পথ খুলে দেন। এর পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ওরফে ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুল ছাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আগের তদন্তগুলোতে হত্যার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মিললেও নতুন করে হত্যা মামলা ও ডনের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad