শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
টোল আদায়ে চালু হবে ETCএক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। টোল আদায়কে দ্রুত, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী চার মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারে যানজট নিরসনযাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আগে তৈরি করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বুয়েটকে ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ নতুন প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কেরানীগঞ্জে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালরাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল করতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণে সময় লাগায় এর আগে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে আগামী চার মাসের মধ্যে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপ কমবে এবং যানজট নিরসনে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
গাবতলী টার্মিনাল সম্প্রসারণগণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সচিবালয় এলাকায় পার্কিং ব্যবস্থাসচিবালয়ের আশপাশের যানজট নিরসনে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স