বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্টসংখ্যক প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলে অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে গাছের চারা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মহাখালীর টি অ্যান্ড টি মাঠে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। নগরজীবনে পরিবেশবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগরী উত্তর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, যুব বিভাগের সহসভাপতি ডা. মাঈনুদ্দীন এবং বনানী থানা আমির মিজানুর রহমান খান।
মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দূষণমুক্ত নগর গঠনে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাব ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে ঢাকা এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়নি। বায়ুদূষণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নগরবাসীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তরুণদের পরিবেশ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভবনে ছাদবাগান গড়ে তোলা, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় তিনি রাজধানীতে বছরে অন্তত একদিন ‘যানবাহনমুক্ত দিবস’ পালনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ওই দিন ব্যক্তিগত ও যান্ত্রিক যানবাহনের পরিবর্তে সাইকেল ও পায়ে হাঁটার সংস্কৃতি উৎসাহিত করা গেলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রতীকীভাবে তিনটি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল জমা দেওয়া কয়েকজন অংশগ্রহণকারীর হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক