বর্ষাকাল মানেই অনিয়মিত বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও কাদামাখা পথ। এমন পরিস্থিতিতে বাইরে বের হলে সবার আগে ভিজে যায় জুতা। ফলে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে—প্রিয় জুতা নষ্ট হয়ে যাবে না তো? তবে সঠিক ধরনের জুতা নির্বাচন করলে বর্ষাতেও একসঙ্গে মিলতে পারে আরাম, নিরাপত্তা ও ফ্যাশনের ছোঁয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে চামড়া বা রেক্সিনের জুতা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব জুতা পানিতে ভিজলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা পায়ে থাকলে ত্বকে অ্যালার্জি বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই এ সময় প্লাস্টিক, রাবার বা পানিনিরোধক উপাদানে তৈরি জুতা ও স্যান্ডেল ব্যবহার করাই সবচেয়ে উপযোগী।
কাপড়ের জুতাও বর্ষার জন্য ভালো একটি বিকল্প। কাদা লাগলেও শুকাতে বেশি সময় লাগে না। তবে কাদা লেগে থাকা অবস্থায় জোরে ঘষা উচিত নয়। আগে কাদা শুকিয়ে নিতে হবে, এরপর টিস্যু বা নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেললে জুতা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
বর্ষার দিনে ফ্লিপ-ফ্লপ স্যান্ডেলও বেশ জনপ্রিয়। ‘ওয়াই’ আকৃতির স্ট্র্যাপযুক্ত এই স্যান্ডেল সহজে পরা যায় এবং কাদা বা পানি লাগলেও দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব। একইভাবে স্লাইডার স্যান্ডেলও বর্ষাকালের জন্য আরামদায়ক ও ব্যবহারিক। এগুলো ভিজলেও সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না এবং জিনস, টপ কিংবা নিত্যদিনের পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।
রাবার বা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল বর্ষার অন্যতম নির্ভরযোগ্য পছন্দ। প্লাস্টিকের ব্যালেরিনা শুও হতে পারে ভালো বিকল্প। এগুলো সহজে পিছলে যায় না, ধোয়ার পর দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং নিয়মিত ব্যবহারের জন্যও বেশ উপযোগী।
এ ছাড়া ক্রক্স ধরনের পা-ঢাকা জুতাও বর্ষাকালে কার্যকর। এসব জুতার গায়ে থাকা ছোট ছোট ছিদ্রের কারণে পানি দ্রুত বের হয়ে যায় এবং বাতাস চলাচল করায় পা দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে।
অন্যদিকে বর্ষাকালে পেন্সিল হিল, উঁচু হিল বা অতিরিক্ত পিচ্ছিল স্যান্ডেল ব্যবহার না করাই নিরাপদ। কারণ বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে গর্ত তৈরি হয়, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তাই বর্ষার মৌসুমে এমন জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা একদিকে আরামদায়ক, অন্যদিকে নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী।
সঠিক জুতা বেছে নিলে বর্ষার প্রতিকূল আবহাওয়াতেও স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলাফেরা করা সম্ভব।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক